ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী

ট্রাম্পের বক্তব্যজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’

ট্রাম্পের বক্তব্যজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫০

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যে দলীয় আক্রমণের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি বিরোধী দলের সমর্থকদের একাংশকে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ ও ‘চার জুলাই, ১৭৭৬ সালের শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে গত শুক্রবার রাতে আধাঘণ্টা বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সেখানে উপস্থিত জনসাধারণের মুখে শোনা যায় উচ্ছ্বসিত স্লোগান ‘ইউএসএ, ইউএসএ’। তাদের মাথার ওপর দিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উড়ে যায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ট্রাম্প নিজ বক্তব্যে জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রশংসা করেন। তাদের প্রতিকৃতি সেখানে গ্রানাইটের পাহাড়ে খোদাই করা রয়েছে। 

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ছিলেন কাজের মানুষ, আকাঙ্ক্ষার মানুষ, সাহসী ব্যক্তি, ভাগ্যবান ও প্রখর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। সর্বোপরি তারা হলেন ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্ব।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রম হয়ে ওঠার বিষয়টি শুধু এর সংবিধানেই নিহিত নেই, বরং এর সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মধ্যেও নিহিত রয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিনিদের মধ্য থেকে সে চেতনা মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তাদের ইতিহাস থেকে পৃথক করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের পরিচয় ফিরিয়ে আনব।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা যখন এই অসাধারণ বার্ষিকীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আমরা মার্কিন পরিচয়কে নতুন আক্রমণের মুখে পড়তে দেখছি। কমিউনিজমের হুমকির বিরুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধে বিজয়ের এক প্রজন্ম পর আমরা আবার একই ধরনের হুমকি এই ভূমিতে বাড়তে দেখছি, এমনকি আমাদের দেশে আসা নবাগতদের মধ্যেও এটি রয়েছে– যাদের চিন্তাভাবনা আমাদের জীবনধারা ও সাফল্যের ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’ 

তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১১ সেপ্টেম্বরে হওয়া হামলার চেয়েও কমিউনিজমকে মার্কিনিদের চেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এটি সংবিধানের শত্রু। সর্বোপরি চার জুলাই, ১৭৭৬ সালের শত্রু ... জীবন, স্বাধীনতা ও সুখের সন্ধানের সম্পূর্ণ বিপরীত হলো কমিউনিজম। এটি মৃত্যু, স্বৈরশাসন ও অশুভের অনুসরণ।’

ট্রাম্প দাবি করেন, কমিউনিস্ট ঈশ্বর বা ধর্মকে ভালোবাসে না। তাদের আইন, বিচার, নীতি, প্রথা বা ঈশ্বর প্রদত্ত অধিকারে প্রতি কোনো সম্মান নেই। আপনি কার্ল মার্ক্সের অনুগত হতে পারেন অথবা আমেরিকার, আপনি কমিউনিস্ট হতে পারেন বা দেশপ্রেমিক, কিন্তু আপনি দুটি হতে পারবেন না।’

ট্রাম্প বলেন, ‘যারা মার্ক্সিস্ট, তারা মিথ্যার প্রচার চালায় আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে, আমাদের শিশুদের বলে যে, আমরা চুরি করা ভূমিতে বাস করি বা আমাদের নেতারা শোষক ছিলেন, তারা আমাদের অতীত খর্ব করা ছাড়াও বড় ধরনের ক্ষতি করছে। তারা আমাদের ভবিষ্যৎকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে, আমি এটি হতে দেব না।’

তিনি কমিউনিস্টদের অবসান ঘটাবেন এবং তাদের বহিষ্কার করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি উচ্ছ্বসিত জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, ‘তাদের আমরা দ্রুতই পাঠিয়ে দেব এবং আমরা আমাদের দেশকে আরও বড়, ভালো এবং দৃঢ় করে গড়ে তুলব। আমেরিকা কখনও কমিউনিস্ট দেশ হবে না।’

ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গও ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের হারতে দিই, শুধু তাহলেই আমরা পরাজিত হবো।’ 

ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের মূলে রয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ অবস্থা। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে মধ্যপন্থিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, উত্থান ঘটছে বামপন্থিদের। গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক ও কলোরাডোতে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে চার প্রগতিশীল প্রার্থী জয়লাভ করেছেন, যার মধ্যে তিনজনই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট। এ ছাড়া প্রগতিশীলরা জয়ের দেখা পেয়েছেন কেন্টাকি, নিউ জার্সি, ওহাইয়ো, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির মাধ্যমে ট্রাম্পের উত্থানের কারণেই ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে এ অবস্থা। এটি অনেকটা প্রথাগত নেতৃত্বের ওপর হতাশা থেকে ঘটছে। এর আগে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখনও এটি হয়েছিল।

আরও পড়ুন

×