সিঙ্গেলদের ভালোবাসার মৌসুম বিশ্বকাপ
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪০
বিশ্বকাপ আসর শুধু ফুটবলেই আবদ্ধ নেই; স্বাগতিক দেশের সিঙ্গেলদের জন্য এটি অনেকটা ভালোবাসার মৌসুমে রূপ নিয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভিড়ে ঠাসা বার, ফিফা ফ্যান জোন, রেস্টুরেন্ট, স্টেডিয়াম এলাকায় তরুণ-তরুণীদের পরিচয় ঘটছে। সেখান থেকে মনের আদান-প্রদান শুরু হচ্ছে অনেকের। আবার বিদেশ থেকে ফুটবল ম্যাচ দেখতে আসা লাখ লাখ পর্যটকের মধ্যে মনের মানুষ খুঁজে পেতে ডেটিং অ্যাপগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেকে। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে অন্যতম জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ হিঞ্জ, বাম্বল ও টিন্ডার-এর পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ চলাকালে এসব সাইট ব্যবহারকারীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি।
স্বাগতিক দেশগুলোতে সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও আলাপচারিতা থেকেও বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ চলাকালে জীবনকে নতুন করে রাঙাতে আগ্রহী অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বন্ধু-বান্ধবকে পরামর্শ দিচ্ছেন, তারা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যেন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর অনুসারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘বিশ্বকাপ যখন তোমার শহরেই হচ্ছে, তখন কেন তুমি স্থানীয় কারও সঙ্গে ডেট করার চেষ্টা করছ না?’
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর ডালাসের এক বাসিন্দা নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে তিনি টিন্ডার, হিঞ্জ ও বাম্বলের মতো অ্যাপ আবার ডাউনলোড করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মতো সিঙ্গেলদের জন্য সময়টা সত্যিই দারুণ উত্তেজনার। আমি নতুন সব ছবি দিয়ে আমার প্রোফাইল আপডেট করছি, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো ফুটবল দলের জার্সি পরা ছবিও রয়েছে।’
বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু টরন্টোর কিং ওয়স্ট বারে কাজ করেন তরুণী ইভা (২৮)। তিনি জানান, ফিফা বিশ্বকাপের কারণে টরন্টো যেন আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। সবখানে বিদেশিরা ভিড় করছেন। ইতোমধ্যে তাঁর জীবনে নতুন বন্ধু জুটেছে বলেও জানান তিনি।
টরন্টোর আরেক বাসিন্দা ইরিনা আরিচের (৪৭) জীবনেও বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন মানুষের আগমন ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই সময়ে মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসে। সবাই একসঙ্গে প্রিয় দলের জয় উদযাপন করতে চায়। মানুষ একে অন্যের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া বাড়াতে চায়। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট মানুষের জড়তা কাটানোর ‘আইস ব্রেকার’ হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে নতুন উদ্যম দেখা যাচ্ছে। জড়তা কাটিয়ে তারা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে হাসি ও ‘হাই’ বিনিময় করছে। একে অন্যের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচিত হচ্ছে এবং একে অন্যের দলের জয় উদযাপনে শামিল হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকের মধ্যে দারুণ উদ্যম ও প্রাণের স্ফুরণ লক্ষ্য করেছেন জানিয়ে টরন্টোতে ফিফার বেভারেজ কো-অর্ডিনেটর এলা (৪০) বলেন, ‘এই ফুটবল উৎসব মানুষকে তাদের গণ্ডি ভাঙতে এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশের খোলস ছেড়ে বের হতে সাহায্য করে। ফুটবলভক্তরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঘরের বাইরে বের হয় এবং দুষ্টুমি ও হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। নিকোল (২৯) নামের এক তরুণী বলেন, ‘বিশ্বকাপ চলাকালে ঘরের বাইরে বের হওয়া আমাকে আরও বেশি আশাবাদী করে তোলে যে, প্রত্যাশিত মানুষটির সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যেতে পারে। আমি পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের একজনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারি। যেটি আমার কাছে দারুণ উত্তেজনাকর ব্যাপার।’
ক্রীড়া ইভেন্ট সিঙ্গেলদের জন্য আশীর্বাদ
খেলাধুলা ও ক্রীড়া ইভেন্টগুলো সিঙ্গেল নারী-পুরুষদের একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার বা সংযোগ স্থাপনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে। ডেটিং অ্যাপ ‘ফিল্ড’-এর গত বছরের একটি গবেষণায় জেন-জি হিসেবে পরিচিত ‘জেনারেশন জেড’-এর সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, জেন-জিদের শীর্ষ ১০টি আগ্রহের বিষয়ের মধ্যে আটটিই ছিল খেলাধুলা-সংক্রান্ত। বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি জেন-জিদের আগ্রহ আগের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিজ্ঞতা অর্জন, সামাজিক মেলামেশা, সুস্থতা, ফিটনেস ও স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব, নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ– সব মিলিয়ে তরুণদের মধ্যে ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে খেলাধুলার আরও জোরালো অবস্থান তৈরি হয়েছে।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
