সাইফ-তানজিদে জমছে না ওপেনিং জুটি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৩ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫০
মাঝে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান, তাতেই এতটা বদল সবকিছু। আগের ম্যাচে যেখানে ১১৫ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৫.১ ওভারে তাড়া করেছিল বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ তামিম একাই ৬৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১৫৯.৫২ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করে পাঁচ-পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, সেই তিনিই কিনা গতকাল ১ রান করে আউট। সাত বল ক্রিজে কাটিয়ে এর বেশি রান তুলতে পারেননি। অথচ এদিনই তাঁকে বড্ড দরকার ছিল দলের।
আসলে সমস্যাটা অনেক দিনের, সমাধানের চেষ্টাও কম হয়নি। গেল দুই বছরে অন্তত ১০টি জুটি গড়ে দেখা হয়েছে ওপেনিংয়ে। কোনো জুটি থিতু হতে পারেনি। অবশ্য আগের সিরিজের সর্বোচ্চ ১৪০ রান সংগ্রহকারীকে বসিয়ে সেই সমস্যা আদৌ ঠিক করতে চেয়েছে কিনা টিম ম্যানেজমেন্ট, সেটাও বোঝা যায়নি। সর্বশেষ ওডিআইতে ম্যাচসেরা হয়েও সৌম্য সরকারকে একাদশেই রাখা হয়নি। অথচ গেল অক্টোবরে এই মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাইফ-সৌম্যের ওপেনিং জুটিতে ১৭৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সাইফের ৮০ রানের পাশাপাশি ৯১ রান করেছিলেন সৌম্য, আগের ম্যাচেও খেলেছিলেন ৪৫ রানের ইনিংস। সাইফ-সৌম্যর এই জুটি যখন ভরসা দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই এই সিরিজে ওপেনিং জুটি নিয়ে ফের পরীক্ষা টিম ম্যানেজমেন্টের।
অথচ প্রায় তিন বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩০ ম্যাচ খেলে তানজিদ তামিমের মোট রান ৬২৬। গড় ২২.৩৫, স্ট্রাইকরেট একশ দুইয়ের কাছাকাছি! আধুনিক ওডিআইতে কোনো ওপেনারের এই রেকর্ড মোটেই মানানসই নয়। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার এই যে তিনি এই ক্যারিয়ারে যে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন, তার কোনোটিতে ম্যাচসেরা হতে পারেননি। তিনি তাঁর এই তিন বছরে একবারই শুধু ওয়ান ডাউনে খেলেছিলেন। বড় ম্যাচে কিংবা বড় মঞ্চে কখনও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তানজিদ।
পরিসংখ্যান বলছে, বড় লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ তামিমের পারফরম্যান্স মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। ২৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে ছয়টি ম্যাচে সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি এই ওপেনার। এই ছয় ইনিংসে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ মাত্র ১৭ রান। বাকি পাঁচ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ১৫, ১২, ৯, ১ এবং ১ রানের নগণ্য ইনিংস। ওপেনিংয়ে এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা বাংলাদেশকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে।
গতকালও শাহিন শাহ আফ্রিদির বল খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে বসেন। নির্বাচকদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আস্থা এই যে বিসিএল এবং অদম্য কাপে তিনি রানের মধ্যে ছিলেন। যেখানে কিনা রান পাননি সৌম্য সরকার। কিন্তু আগের ওডিআইতে যিনি ম্যাচসেরা তিনি যদি পরের দুই ম্যাচে একাদশেই না থাকেন, তাহলে বাকিদের মধ্যেও ভুল বার্তা যেতে পারে। তবে এসব টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে কতটা গুরুত্ব পায় জানা নেই।
আগের বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে পারভেজ ইমন আর তানজিদ তামিম তিন ম্যাচে ওপেনিং করেছিলেন। রান এসেছিল যথাক্রমে ২৯, ১০ ও ১৯। পরের আফগান সিরিজে সাইফ আর তানজিদের ওপেনিং জুটি থেকে এসেছিল ১৮, ০, ৩৫ রান। এরপর উইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে তিন ম্যাচের সিরিজে সাইফ-সৌম্যর ওপেনিং জুটি থেকে এসেছিল ৮, ২২, ১৭৬। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে আসে ২৭ আর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩ রান।
- বিষয় :
- তানজিদ তামিম
- সাইফ হাসান
