যেখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে ভিনি-এমবাপ্পে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১৫:২৭
কথা ছিল, এ সময়েই দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আর স্পেনকে নিয়ে ‘ফিনালিসিমা’ দেখিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের আগমনীর ঘোষণা দেওয়া হবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে কাতারের লুসাইয়ে আর সেই জলসা বসছে না। এখন বিশ্বকাপের সেই ট্রায়াল হবে আরেক দুই বিশ্বশক্তি ব্রাজিল আর ফ্রান্সকে দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বিখ্যাত জিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় মুখোমুখি হবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের ব্রাজিল।
যদিও ম্যাচটি ফিফা ফ্রেন্ডলি, তার পরও লাতিন আর ইউরোপের ঐতিহ্য আর ইতিহাস মিশে থাকবে এই ম্যাচ ঘিরে। যেখানে একটি প্রজন্মের দর্শক নস্টালজিক হয়ে খুঁজে বেড়াবে সেই ১৯৫৮ সালে পেলের হ্যাটট্রিক কিংবা জিদানের ১৯৯৮ সালের সেই জোড়া হেড। আর বর্তমান কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষায় থাকবে মাদ্রিদের দুই সতীর্থ ভিনি আর এমবাপ্পেকে একে অন্যের বিপক্ষে লড়াই করতে দেখার।
ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স– বিশ্ব ফুটবলের এ এমন এক ঘরানা, যাদের লড়াইটা যতটা না ঘাসের ওপর, তার চেয়েও বেশি মগজের। একদিকে ব্রাজিলের সেই ‘জাগো বানিতো’, যা এখন ভিনি-রাফিনিহাদের পায়ে কিছুটা যান্ত্রিক রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স, যাদের ফুটবলটা অনেকটা শ্যাম্পেনের মতো ঘোর লাগানো। ঠিক ১১ বছর পর দুটি দল ফের মুখোমুখি; বিশ্ব ফুটবলের আজ সমস্ত আকর্ষণ নিশ্চিতভাবেই তাই বোস্টনের দিকে।
ফিফার বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স তিনে, ব্রাজিল পাঁচে। তবে এই র্যাঙ্কিং যে কেবলই সংখ্যা, তা সারাবছর রাত জেগে টেলিভিশনে ভিনি-এমবাপ্পেদের খেলা দেখা দর্শক ঠিকই জানেন; বরং আজকের ম্যাচে কিছু পরীক্ষার ফল জানতে তারা আগ্রহী। নেইমারকে বাদ দিয়ে এই ম্যাচ খেলতে এসেছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলেত্তি। ডাগআউটে বসে থেকেও তাঁকে আজ প্রমাণ দিতে হবে, নেইমার ছাড়া আসলেই এই ব্রাজিল বিশ্বকাপ অভিযানে যাবে কিনা।
লাতিন ফুটবলে ইউরোপিয়ান ছাঁচ আনতেই ব্রাজিল আনচেলেত্তিকে এনেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি আসার পর এ পর্যন্ত মোট আটটি ম্যাচের চারটিতে জয় পেয়েছে, যার বেশির ভাগই ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে লাতিন দলগুলোর বিপক্ষে। আর সেই আনচেলেত্তি প্রথমবারের মতো ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে তাঁর ব্রাজিলকে নামাচ্ছেন। এই ম্যাচের ফলাফল হয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে, আর না হয় তাতে আঘাত হানবে। সেখানে রাফিনিহা, ক্যাসিমিরো, মারকুইনহোসের মতো অভিজ্ঞদের ওপর যেমন ভরসা রাখছেন তিনি; ততটাই পেদ্রো, সান্তোস আর ব্রামারদের মতো তরুণের প্রতি আস্থা আছে তাঁর।
আনচেলেত্তির তুলনায় এই ম্যাচে অনেকটাই স্বস্তিতে থাকবেন ফরাসি কোচ দেশম। গেল সাত ম্যাচ ধরে তাঁর দল অপরাজিত। ভাবনা তাঁর একটি জায়গাতেই। এমবাপ্পের হাঁটুতে চোট আছে বলে খবর বেরিয়েছিল স্প্যানিশ মিডিয়ায়। যদিও তিনি দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। পুরো ম্যাচ খেলার প্রতিশ্রুতিও নাকি দিয়েছেন। তার পরও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমবাপ্পের শতভাগ ফিটনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
