ক্রীড়া কার্ডে আগ্রহ বাড়বে খেলোয়াড়দের
সাবিনা খাতুন-খই খই সাই মারমারা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১৩:২২
খেলাধুলায় আর্থিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন আরচারির বড় দুই তারকা রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী। এসব কারণে বাংলাদেশের অনেক অ্যাথলেটই খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেননি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের এই নাজুক পরিস্থিতি বদলে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ভাতা বাবদ এক লাখ টাকা করে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মাসিক এক লাখ টাকার বেতন আগামী চার মাস নিয়মিত পাবেন সাবিনা খাতুন-খই খই সাই মারমারা। ১২০ দিন পর নতুন করে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। যারা ব্যর্থ হবেন, তারা বাদ পড়ে যাবেন ক্রীড়া ভাতা থেকে। উঠতি কোনো তারকা তখন যুক্ত হবেন এই ক্রীড়া ভাতায়। বর্তমান সরকারের এমন উদ্যোগে খেলাধুলার প্রতি ক্রীড়াবিদদের আগ্রহ বাড়বে বলে বিশ্বাস ভাতা পাওয়া খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টদের।
‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা: ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের তালিকা করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, সুইমিং, ভারোত্তোলন, উশু, অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, ফুটসাল, ব্রিজ, টেবিল টেনিস, নারী কাবাডি দল, নারী ভলিবল দল ও ব্যাডমিন্টনের মোট ১২৯ ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশকে ১৮০টি পদক এনে দিয়েছেন। এই সাফল্যে প্রথম ধাপে তাদের দেওয়া হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা।
‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা সুবিধাগুলো কী: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে পদক এনে দেওয়া ২০টি ইভেন্টের খেলোয়াড়দের সবাইকে ভাতা হিসেবে এক লাখ টাকা দিয়েছে সরকার। গতকাল সবার অ্যাকাউন্টে এই টাকা চলেও গিয়েছে। ভাতার বাইরে পদকজয়ীদের সম্মাননা হিসেবে অর্থ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা স্বর্ণপদক জিতেছেন, তাদের নিজ হাতে তিন লাখ টাকার চেক তুলে দেন তারেক রহমান। রুপাজয়ীদের দেড় লাখ ও ব্রোঞ্জজয়ীরা পেয়েছেন সম্মাননা হিসেবে এক লাখ টাকা করে। একই সঙ্গে ছবিসংবলিত নাম, আইডি নম্বরযুক্ত সবাইকে দেওয়া হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’, যা মাসিক ভাতা পেতে লাগবে।
প্রেরণা দেবে এই স্বীকৃতি: তিন দিন আগে থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে স্বর্ণ জেতা আরচারি দলের অন্যতম সদস্য হিমু বাছাড় বলেন, ‘ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তাঁর পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবেন। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’ আরচার হিমুর সঙ্গে একমত নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাঁকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদও মনে করেন এই ভাতা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে, ‘আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটি ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ’
আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও: গত বছর জুনিয়র হকি দল খেলেছিল বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে যেটি বড় অর্জন। সেই হকি দলকে ভাতার আওতায় না দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। আবার সেপাট টাকরোর মতো অপ্রচলিত খেলাকে ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় আনায় ক্রীড়াঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। যদিও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, ক্রিকেটের বাইরে বাকি সব ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের তারা বেতনের আওতায় আনবেন। সে তালিকায় হকিও থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ফুটসাল মাঠ চাইলেন সাবিনা: প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশ নারী দল সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ফুটসালের কোনো মাঠ নেই। গতকাল ক্রীড়া ভাতা ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটা ফুটসালের মাঠ চেয়েছেন সাবিনা। সাবিনার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা– আমরা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে কাজটা শেষের দিকে।’
- বিষয় :
- ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- খেলা
