ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কিউইদের সমীহ সিমন্সের

কিউইদের সমীহ সিমন্সের
×

করাচি থেকে ফিরে এসেই বুধবার মিরপুরে চলে আসেন নাহিদ রানা ও শরিফুল। কোচ আশরাফুল ও সিমন্স স্বাগত জানান তাঁদের বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৯ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে খেলতে আসা নিউজিল্যান্ড দলটাকে কোনোভাবেই দ্বিতীয় সারির মনে করেন না প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। মিরপুরে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষকে খর্ব শক্তির বলায় কিউইদের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন তিনি। তাঁর যুক্তি হলো, এই দলটি নিউজিল্যান্ডের ব্যানারেই খেলবে। তাই বিকল্প বলা হলে প্রতিপক্ষকে অসম্মান করা হয়। বাস্তবতা হলো, ১৫ থেকে ১৬ জন সেরা ক্রিকেটার না থাকলে একটা পার্থক্য তো থাকেই। টম ল্যাথামের দলের খেলোয়াড়রাও কম বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এই বিবেচনায় টাইগার কোচ হয়তো প্রতিপক্ষকে সমীহ রেখে খেলতে চান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি। 

‘দ্বিতীয় সেরা দল বলে আমার কিছু জানা নেই। একটি দল যখন কোনো দেশ থেকে আসে, সেটিই তাদের সেরা। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড, যেখান থেকে একের পর এক ক্রিকেটার উঠে আসে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এই ছেলেরা (নিউজিল্যান্ডের) ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন সংস্করণে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। কাজেই তারা খুবই অভ্যস্ত ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাদের কয়েকজন হয়তো (বেশি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি। তবে সবাই জীবনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। কাজেই দ্বিতীয় সেরা দল ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ দেখি না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওভাবে ক্রিকেট কাজ করে না।’ এভাবেই নিজের যুক্তি তুলে ধরেন সিমন্স। 

বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের কৌশল বদল হয়েছে ২০২১ সাল থেকে। সেই বছর টি২০ বিশ্বকাপের আগে দ্বিতীয় সেরা দল নিয়ে এসেছিল তারা। ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেও বিকল্প দল পাঠিয়েছিল দেশটি। মিরপুরে খেলা ওই সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তিন বছর পর আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাথায় রেখে হয়তো বিকল্প ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করছে কিউইরা। তবে সফরকারীরা যেভাবেই খেলুক, টাইগারদের লক্ষ্য ভালো উইকেটে খেলা। সিমন্সের মতে, ‘আমরা আরও ভালো উইকেট পাওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ আমি দেখেছি, আপনি যখন ভালো উইকেটে খেলেন, আপনার দল দ্রুত উন্নতি করে। তাই আমি যথাসম্ভব সেই ধরনের উইকেট পাওয়ার চেষ্টা করব।’ 

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে বেলা ১১টা থেকে ম্যাচ শুরু হবে। এতে গরমে কিছুটা কঠিন করে তুলতে পারে স্বাভাবিক খেলা। টাইগারপ্রধান কোচের তাই মনে হয়, ‘কিছুটা পার্থক্য তৈরি করবে। দিনের বেলায় খেললে উইকেট একটু বেশি গ্রিপ করতে পারে ও একটু ধীরগতিরও হতে পারে। অনুশীলনগুলোও এই সময়ে হচ্ছে, আমরা সেটার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ পাকিস্তানের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো উইকেটে এবং অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। গত সিরিজের একাদশ অপরিবর্তিত রেখে খেলতে পারে প্রথম দুটি ম্যাচ। সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন সিমন্স– ‘আমার মনে হয়, আমরা মোটামুটি গুছিয়ে ফেলেছি। কারণ শেষ ম্যাচে আমাদের একটা ভালো জুটি হয়েছে, আর গা গরমের ম্যাচে সাইফ দেখিয়েছে, আমরা তার কাছ থেকে যেমনটা আশা করি, সে সেভাবেই ফিরছে। তাই আমার মনে হয়, আপাতত আমরা গুছিয়ে নিয়েছি।’ সে ক্ষেত্রে সৌম্য সরকারকে এই সিরিজেও বেঞ্চে থাকতে হচ্ছে। কেন বেঞ্চে থাকতে হবে, সে কারণও জানালেন কোচ, ‘সৌম্য অসাধারণ একজন। সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো খেলেছে। তবে ওই সিরিজের পর বিপিএল, বিসিএলে অনেক ক্রিকেট খেলতে পারেনি। তাই বিকল্প সিদ্ধান্তটা নিতে হয়েছে।’ 

এক দিনের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব ঘুচে গেছে অনেক আগেই। সেই ২০০৮ সালে মিরপুরে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে প্রথম জিতেছিল টাইগার বাহিনী। এর পর থেকে দেশের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে জয়ের ফাল্গুধারা ছিল প্রবহমান। ২০২৩ সালের আগে টানা সাতটি ম্যাচ জিতেছিলেন মুশফিকুর রহিমরা। কিংবদন্তি ড্যানিয়েল ভেট্টরির দলকেও ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ২০১০ সালে। কেন উইলিয়ামসনের দলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও জিতেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। তবুও কেন নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলকে স্বাগতিকদের এত ভয়?

আরও পড়ুন

×