৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ১২:৫২ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ১৭:১০
মিরপুরের আকাশে মেঘ কেটে অবশেষে স্বস্তির দেখা মিলেছে। ম্যাচ অফিশিয়ালদের মাঠ পরিদর্শনের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলা পুনরায় শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে নতুন সমীকরণ অনুযায়ী আর ব্যাটিংয়ে নামতে হচ্ছে না সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানেই থেমেছে তাদের ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে ওভার কেটে নেওয়ায় এখন ‘ডার্কওয়ার্থ-লুইস’ পদ্ধতিতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪১ ওভারে ১৯২ রান। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে লক্ষ্য তাড়া করতে মাঠে নামবে স্বাগতিকেরা।
ম্যাচের ওভার কমে আসায় পাওয়ার প্লে এবং বোলারদের কোটাতেও এসেছে পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পাওয়ার প্লে শুরুর ৮ ওভার। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে ৯ থেকে ২৫ ওভার পর্যন্ত। তৃতীয় পাওয়ার প্লে ২৬ থেকে ৪১ ওভার পর্যন্ত। এদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য তাড়া করার ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার বোলিং করার সুযোগ পাবেন। সিরিজ নিশ্চিত করতে এখন লিটন-তামিমদের দরকার ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
মিরপুরে বৃষ্টি, খেলা বন্ধ
৪২তম ওভার শেষ হতেই মিরপুরে আচমকা বৃষ্টিতে বন্ধ রয়েছে খেলা। অস্ট্রেলিয়ার রান ৪২ ওভারে আট উইকেটে ১৮৭।
তাসকিনের জোড়া শিকারে ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ
ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তুলছিলেন মার্নাস লাবুশেন ও জ্যাভিয়ার বার্টলেট। তাদের প্রতিরোধে দলীয় স্কোর দেড়শো পার করে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল সফরকারীরা। তবে জোড়া আঘাতে ম্যাচ আবার বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এনেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
সপ্তম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মার্নাস লাবুশেন এবং জ্যাভিয়ার বার্টলেট। শুরুটা দেখেশুনে করলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর চড়াও হন লোয়ার-অর্ডারে নামা পেসার বার্টলেট। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই মূলত ম্যাচে প্রাণ খুঁজে পায় অস্ট্রেলিয়া। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় দলীয় সংগ্রহ ১৫০ রান পার করে অজিরা।
অবশেষে ৪১তম ওভারে বোলিংয়ে এসে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ১০৩ রানের এই জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিনের ডেলিভারি আড়াআড়ি ব্যাটে ওড়াতে যান বার্টলেট। তবে টাইমিং ও লাইনের গড়বড়ে বল সরাসরি তার স্টাম্প উপড়ে দেয়। সাজঘরে ফেরার আগে ৪৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন বার্টলেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।
বার্টলেটকে বোল্ড করার ঠিক পরের বলেই নতুন ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পাকে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ দেন তাসকিন। তার ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন জাম্পা। তবে বল ভেতরে সুইং করে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি মিডল স্টাম্পে আঘাত হানে। টানা দুই বলে জোড়া উইকেট শিকারে স্বস্তি পেল বাংলাদেশ।
৪২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ৮ উইকেটে ১৮৭। মার্নাস লাবুশেনের রান ৫৫। ২ রানে আছেন এলিস।
লাবুশেন-বার্টলেটের প্রতিরোধে জুটির পঞ্চাশ
দলীয় ৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েএকশো রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন মার্নাস লাবুশেন এবং জ্যাভিয়ার বার্টলেট। এই দুই ব্যাটারে বিপর্যয় সামলে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করছে অজিরা। ইতোমধ্যেই ৫৫ বলে ৫০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুলেছেন লাবুশেন ও বার্টলেট।
এই জুটির পঞ্চাশ হতেই এটি ভাঙার একটি সুযোগ এসেছিল মিরাজের সামনে। মিরাজের ডেলিভারিতে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন লাবুশেন। বল সরাসরি তার প্যাডে আঘাত হানলে জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া না দিলে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্টাম্পে আঘাত হানত, তবে বলের অর্ধেকের কম অংশ স্টাম্পের লাইনে থাকায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। অর্থাৎ, ‘আম্পায়ার্স কল’এর কারণে এ যাত্রায় উইকেটে টিকে যান লাবুশেন।
৩১ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ৬ উইকেটে ১৩৬। ২৫ বরে ৩২ রানে খেলছেন বার্টলেট। ৪৮ বলে ২৮ রানে ব্যাট করছেন লাবুশেন।
ফিরলেন ক্যামেরুন গ্রিন, ৬ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার
আবারও তানভীরের আক্রমণ, এবার ফেরালেন অজিদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ক্যামেরুন গ্রিন। আগের ম্যাচেই ফিফটি করেছিলেন। এবার ফিরলেন ২৫ রান করে। এখন উইকেটে এসেছেন বার্টলেট, আরেক পাশে লাবুশেন। ২২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ৬ উইকেটে ৮৫।
ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দিলেন তানভীর
২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। প্রথম পাওয়ার প্লে-র ধাক্কা সামলে ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে অজিদের সেই প্রতিরোধ ভেঙে এবার উইকেটের খাতায় নাম লিখিয়েছেন স্পিনার তানভীর ইসলাম।
ইনিংসের ১৮তম ওভারে বোলিং আক্রমণে এসে অধিনায়ক জশ ইংলিসকে সাজঘরের পথ দেখান তানভীর ইসলাম। ইংলিসের বিদায়ে ভেঙে যায় ৪৩ রানের এই প্রতিরোধ। ১৮ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৭৫ রান। ক্রিজে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে নতুন ব্যাটার মার্নাস লাবুশানে।
অজিদের ওয়ানডের ইতিহাসে যা ঘটেনি, তাই করেছে বাংলাদেশ
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
ইতিহাসে প্রথমবার ০ রানে ৩ উইকেট: অস্ট্রেলিয়ার ১০২৪ ম্যাচের সুদীর্ঘ ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রান তোলার আগেই টপ-অর্ডারের ৩টি উইকেট হারিয়েছে তারা। এর আগে সর্বনিম্ন ৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর রেকর্ড ছিল দলটির।
ওপেনিংয়ে জোড়া শূন্যের বিরল রেকর্ড: দুই অজি ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও কুপার কনোলি উভয়েই কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন। অজি ক্রিকেট ইতিহাসে দুই ওপেনারেরই শূন্য রানে আউট হওয়ার এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমনটা ঘটেছিল।
তাসকিন-ফিজের তাণ্ডব: প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই কুপার কনোলিকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান মুস্তাফিজ। একই ওভারের শেষ বলে রেনশকে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। বাংলাদেশ সফল রিভিউর সাহায্যে রেনশর উইকেটটি আদায় করে।
২৫ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন: প্রাথমিক ধাক্কা সামলে জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স ক্যারি ২৫ রানের জুটি গড়লেও অষ্টম ওভারে ক্যারিকে (১৩) আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। ৮ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৫ রান।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে সাইফ হাসানের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া একাদশে লিয়াম স্কটের জায়গায় খেলছেন পেসার রাইলি মেরেদিথ।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
