ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেও ঐতিহ্য ধরে রাখল জাপানিরা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৫:৩৩ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৫:৫৫
বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করে আবারও প্রশংসায় ভাসছেন জাপানের সমর্থকরা। রোববার রাতে টেক্সাসের আর্লিংটনে এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডাচদের বিপক্ষে দুই-দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে জাপান। ম্যাচ শেষ হতেই জাপানি সমর্থকরা ব্যাগ হাতে নেমে পড়েন গ্যালারি পরিষ্কারে। গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা নিজেরাই কুড়িয়ে নিয়ে যান তারা।
সাধারণত ম্যাচের পর যেখানে স্টেডিয়াম পরিষ্কারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়, সেখানে জাপানিদের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাদের সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাপান ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচটিতে আবেগ-উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা ডাচদের চোখে চোখ রেখেই লড়াই করেছে ব্লু সামুরাইরা। প্রথমার্ধে দুই দল গোলশূন্য সমতায় থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি জমে ওঠে। ৫১ থেকে ৬৪ মিনিটের মধ্যে হয় তিনটি গোল। ৫১ মিনিটে ডাচরা এগিয়েও গেলেও ৬ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে জাপান।
৬৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডসকে আবারও এগিয়ে দেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। এই গোলের পর হয়তো জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ার আশা দেখছিল ডাচরা। কিন্তু ৮৯ মিনিটে কোকি ওগাওয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান দাইচি কামাদা। সেই গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন জাপানি সমর্থকরা।
এমন উদযাপনের দিনেও দেখা গেল জাপানের সেই চিরচেনা রূপ। শেষ বাঁশি বাজতেই নীল ব্যাগে গ্যালারির আবর্জনা সংগ্রহ করতে দেখা যায় জাপানের সমর্থকদের। উদযাপনের পাশাপাশি গ্যালারি পরিষ্কারের এই সংস্কৃতিও যেন জাপানি সমর্থকদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
জাপানি সমর্থকদের এমন দায়িত্ববোধ প্রথমবার আলোচনায় আসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। এরপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন তারা। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে পরাজয়ের পরও স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিষ্কার করে প্রশংসিত হন জাপানিজরা। এর ৪ বছর পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও একই দৃশ্য দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি
