ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মানজাম্বির শৈশবের স্বপ্নপূরণ

মানজাম্বির শৈশবের স্বপ্নপূরণ
×

সুইচ স্ট্রাইকার ইয়োহান মানজাম্বি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১০:৩৭ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ১০:৫৬

সান ফ্রান্সিসকোতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সুইজারল্যান্ডকে। বৃহস্পতিবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধেও তেমন শঙ্কাই জেগেছিল কোচ মুরাত ইয়াকিনের শিবিরে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে কোচের এক সিদ্ধান্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বদলি খেলোয়াড় ইয়োহান মানজাম্বির জোড়া গোলের সুবাদে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটিতে বড় জয় তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে ৮০ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বসনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপীয় দলটি।

শুরু থেকেই ম্যাচে প্রাধান্য বিস্তার করে সুইজারল্যান্ড। প্রথম কয়েক মিনিটেই তারা একাধিক কর্নার আদায় করে নিলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভেদ করে গোল আদায় করতে পারছিল না মুরাত ইয়াকিনের দল। ৭ মিনিটে গ্রানিত জাকার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণে বাধা পায়। ১৯ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু দান এনদোয়ের দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল। কিছুক্ষণ পর রেমো ফ্রয়লারের শট জাল খুঁজে না পেলে আবারও হতাশ হতে হয় সুইজারল্যান্ডকে। গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে গোল আদায় করতে পারছিল না রেড ডেভিল স্ট্রাইকাররা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি দলে তিনটি পরিবর্তন আনে সুইসরা। কোচের এই সিদ্ধান্তে দ্রুতই ফল মেলে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ডেকলক ভাঙে সুইসরা। দারুণ এক ভলিতে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় ইয়োহান মানজাম্বি। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটেই কোচের আস্থার প্রতিদান দেন দলের সবচেয়ে তরুণ এই ফুটবলার।

৮০তম মিনিটে আরেক ধাক্কা খায় বসনিয়া। বক্সের বাইরে এমবোলোকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দলটির ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ। চার মিনিট বাদেই অপর বদলি খেলোয়াড় ভার্গাসের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় সুইসরা। এমবোলোর পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ভার্গাসের পাস থেকেই দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন মানজাবি। ম্যাচে জোড়া গোল করে জাতীয় দলের পক্ষে নিজের গোলের সংখ্যা পাঁচে উন্নীত করেন তিনি। যোগ করা সময়ে বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে বুলেট গতির শটে ব্যবধান কমান এরমিন মাহমিচ। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। জিব্রিল সো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সুইসরা। সফল স্পট কিকে দলকে চতুর্থ গোল এনে দেন জাকা। 

সুইসদের জয়ের নায়ক মানজাম্বি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী এটি অবিশ্বাস্য লাগছে। ক্যারিয়ারে এটাই আমার প্রথম জোড়া আর আর সেটিই কিনা বিশ্বকাপে। গ্যালারিভর্তি দর্শক এবং আমার পরিবারের সদস্যদের সামনে দুই গোল করা সেটাই দারুণ ব্যাপার। আমার মনে হয় না, আজ রাতে আমি ঘুমাতে পারবো।’

গত বছর সুইজারল্যান্ডের সেরা যুব খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া জার্মান বুন্দেসলিগার দল এফসি ফ্রেইবার্গের ২০ বছর বয়সী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ম্যাচ শেষে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘কোচ ট্যাকটিক্যাল ও টেকনিক্যাল বিষয়ে আমাকে কিছু টিপস দিয়েছিলেন। আর বদলি হিসেবে মাঠে পাঠানোর আগে আমাকে নিজের মতো খেলতে বলেছিলেন। আমি সেটিই করার চেষ্টা করেছি এবং গোলের দেখা পেয়েছি। আমার কাছে সবকিছু অবিশ্বাস্য লাগছে। শৈশব থেকে এমন কিছুর স্বপ্নই আমি দেখেছি।’

জীবনে এটাই সেরা দিন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই তরুণ ফুটবলারের ঝটপট জবাব, ‘হ্যাঁ, আমার তেমনটাই মনে হচ্ছে।’

সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন মানজাম্বির প্রশংসা করে বলেন, ‘ইয়োহান (মানজাম্বি) একজন সুখী মানুষ, যার অসাধারণ ফুটবল দক্ষতা রয়েছে। আমরা তাকে খেলায় নানাভাবে কাজে লাগাতে পারি। মিডফিল্ডে দলের রক্ষণভাগকে সহায়তা করার পাশাপাশি উইংয়ে সে একজন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে থাকে। আক্রমণে যেতে তাকে পুরোটা স্বাধীনতা দেওয়া হয়। যেমনটা আপনারা আজ রাতে দেখেছেন। তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং দক্ষতা রয়েছে এবং সে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি এবং গোল আদায় করতে পারে।’

আরও পড়ুন

×