ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ যেন গোলের মেলা 

বিশ্বকাপ যেন গোলের মেলা 
×

আহসান হাবিব সম্রাট 

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৯:২১

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আসরটি যেন গোলের পসরা সাজিয়ে বসেছে। টুর্নামেন্টের প্রায় প্রতি ম্যাচে গোল উৎসবে মেতে উঠছেন ফুটবলাররা। শনিবার হাউস্টনে ব্রিয়ান ব্রবি ও কডি গ্যাকপোর জোড়া গোলে সুইডেনকে গোলের মালা পরিয়ে (৫-১) জয় তুলে নেয় নেদারল্যান্ডস। এ ম্যাচেই শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বকাপ। চলতি আসরে মাত্র ৩৩ ম্যাচে শততম গোল টুর্নামেন্টের ৬৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড ফিরিয়ে আনে।

সর্বশেষ ১৯৫৮ সালের সুইডেন আসরে ৩৩ ম্যাচে শততম গোল দেখেছিল ফুটবল দুনিয়া। তবে এটি বিশ্বকাপে দ্রুততম শত গোলের রেকর্ড নয়। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৫৪ আসরে দ্রুততম গোলের সেঞ্চুরি দেখে বিশ্ববাসী। সেবার মাত্র ২০ ম্যাচেই গোলের সংখ্যা তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিল।

এবারের বিশ্বকাপ আসরে প্রতি ম্যাচেই গড়ে তিনের বেশি গোলের সংখ্যাটা ফুটবল বোদ্ধাদের কাছেও কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। গোলের এমন উৎসব চলতে থাকলে টুর্নামেন্টে (১০৪ ম্যাচ) ৩০০ গোলের সংখ্যা ছাপিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ইংল্যান্ডের হয়ে ২০২২ ইউরোজয়ী ফুটবল অ্যালেন হোয়াইট বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘এবারের টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত সম্ভবত সবচেয়ে জমজমাট ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি হয়েছে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। তাত্ত্বিকভাবে আঁটোসাঁটো ওই ম্যাচটিতেও চারটি গোল হয়েছে।’

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ১৯৮২ সালের (স্পেন) আসরে শততম গোল এসেছিল ৩৬ ম্যাচে। ২০০২ সালে জাপান ও কোরিয়া বিশ্বকাপে এ মাইলফলকে পৌঁছাতে লেগেছিল ৩৯ ম্যাচ। কাতার ও রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের আগের দুই আসরে ৩৯ ম্যাচ লেগেছে। এ ছাড়া জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০০৬ ও ২০১০ আসরে তিন অঙ্কের গোল দেখা যায় ৪৪তম ম্যাচে। আর আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ১৯৭৮ ও যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া ১৯৯৪ আসরে ৩৮ ম্যাচে শততম গোল পায় টুর্নামেন্ট।

এবারের বিশ্বকাপে গোলের যাত্রা শুরু হয় ১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে। স্বাগতিকদের ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতে টুর্নামেন্টে গোলের খাতা খোলেন হুলিয়ান কুইনোনেস। তবে গোলের বন্যা বয়ে যায় জার্মানি ও কুরাসাও এবং কানাডা ও কাতার ম্যাচে। এই ম্যাচ দুটিতে জার্মানি (৭-১) এবং কানাডা (৬-০) প্রতিপক্ষের গলায় গোলের মালা পড়ায়। টুর্নামেন্টে আরও কয়েকটি ম্যাচেও গোল উৎসব হয়। এসবের মধ্যে সুইডেন (৫-১) তিউনিসিয়া, জাপান (৪-০) তিউনিসিয়া, যুক্তরাষ্ট্র (৪-১) প্যারাগুয়ে এবং ইংল্যান্ড (৪-২) ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ উল্লেখযোগ্য।

সবার নজর টুর্নামেন্টের বলে
ফিফার পছন্দ অনুসারে এবারের বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হচ্ছে অ্যাডিডাসের তৈরি ‘ট্রিওন্ডা’ ফুটবল। এই বলের গতি ও ‘ফ্লাইট’ বুঝতে গোলরক্ষকদের সমস্যা হচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পোস্টের দিকে আসা বল তালুবন্দি করতেও কয়েকজনকে সমস্যায় পড়তে দেখা যায়।

সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের সময় বিষয়টা অনেকের নজরে আসে। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দিকে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে ২২ গজের বেশি দূর থেকে নেওয়া শটে ৫টি গোল হয়। এসব গোলের মধ্যে সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুবার নিশানা ভেদ করেন।

ইংল্যান্ড দলের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বিবিসি স্পোর্টকে জানান, বিশ্বকাপের বল তালুবন্দি করতে গোলরক্ষকদের সমস্যা হতে পারে। অন্য সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পল রবিনসন বলেন, ‘তিনি লক্ষ্য করেছেন মাঝেমধ্যে বল গোলরক্ষকের জন্য প্রত্যাশিত আচরণ করছে না। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে বলের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।’

তবে বিশ্বকাপের বল নিয়ে গোলরক্ষকদের সন্দেহে উদ্রেক হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ‘জাবুলানি’ ফুটবল নিয়েও অনেক কথা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, জাবুলানি বল অধিক সময় বাতাসে ভেসে থাকতে এবং আকস্মিক দিক পরিবর্তন করত। এতে পোস্টে নেওয়া প্রতিপক্ষের দূরপাল্লার শট নিয়ন্ত্রণে নিতে বেগ পেতে হয়েছে গোলরক্ষকদের।

আরও পড়ুন

×