ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

হালান্ড বনাম ভিনিসিয়ুস, সঙ্গে ব্রাজিলের ‘নরওয়ে জুজু’

হালান্ড বনাম ভিনিসিয়ুস, সঙ্গে ব্রাজিলের ‘নরওয়ে জুজু’
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩০

শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে একেবারে শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির গোলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে এবার তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ডার্ক হর্স নরওয়ে। যে দলের বিপক্ষে ইতিহাসের পাতায় আজ পর্যন্ত একবারও জয়ের মুখ দেখেনি সেলেসাওরা।

আজ দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, ব্রুনো গিমারায়েসদের ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের নরওয়ে। লাতিন সাম্বা আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শক্তির এই লড়াই ঘিরে তাই বাড়ছে উত্তেজনা।

কাগজে-কলমে অবশ্য এগিয়ে ব্রাজিলই। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সেলেসাওরা রয়েছে পঞ্চম স্থানে, নরওয়ের অবস্থান ২১। সাম্প্রতিক ফর্মও কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষেই। শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় ও একটি ড্র করেছে আনচেলত্তির দল। অন্যদিকে নরওয়ের ঝুলিতে রয়েছে তিন জয়, একটি ড্র ও একটি হার।

তবে পরিসংখ্যানের সবচেয়ে অস্বস্তিকর দিকটি ব্রাজিলের জন্য মুখোমুখি লড়াইয়ে। দুই দল এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুই ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র। অর্থাৎ ব্রাজিলের জয় এখনো শূন্য। সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে রোনালদো-রিভালদোদের ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল নরওয়ে। প্রায় তিন দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হচ্ছে দুই দলের।

দুই দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বেশ মজার। জাপানের বিপক্ষে ৯৫ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির করা গোলটি বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ের সবচেয়ে দেরিতে হওয়া জয়সূচক গোল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছে ব্রাজিল।

আক্রমণের পাশাপাশি মাঝমাঠেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন ব্রুনো গিমারায়েস। চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে তিনিই সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা। ব্রাজিলের হয়ে এক বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করেছিলেন কেবল পেলে, ১৯৭০ সালে।

অন্যদিকে নরওয়ের আত্মবিশ্বাসও কম নয়। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে তারা। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড টানা তিন বিশ্বকাপ ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে গড়েছেন নতুন কীর্তি। ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের ডার্ক কুইটের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই নজির গড়েছেন আর্সেনাল তারকা। সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য আর্লিং হালান্ড। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫৩ ম্যাচেই ৬০ গোল করা এই স্ট্রাইকার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।

এবার দেখার বিষয়, ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোদের ব্রাজিল কি 'নরওয়ে জুজু' কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়, নাকি হালান্ড-ওডেগার্ড জুটির হাত ধরে বিশ্বকাপে নতুন আরেকটি রূপকথা লিখবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা।

আরও পড়ুন

×