‘ব্রাজিলের ভরসা ইয়ামাল’: লাতিন আমেরিকা কেন মেসিদের বিপক্ষে
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা লামিনে ইয়ামালের সম্পাদিত ছবি। স্ক্রিনশট
এএফপি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৬:০০ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৬:০৮
লাতিন আমেরিকার বাসিন্দারা ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজ অঞ্চলের দলগুলোর পক্ষ নেন। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য মিম, কৌতুক এবং সমালোচনা দেখাচ্ছে, কেবল একটি দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যতিক্রম। সেই দলটি হলো- আর্জেন্টিনা।
সম্প্রতি স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালের সম্পাদিত একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইয়ামাল ব্রাজিলের জার্সি পরে আছেন। ক্যাপশনে লেখা, ‘ব্রাজিলিয়ানদের শেষ ভরসা।’
বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে এই বৈরি মনোভাব কেবল ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নেই। মেক্সিকো, কলম্বিয়া, চিলিসহ অন্যান্য দেশগুলোও আশা করছে ফাইনালে মেসিরা যেন হেরে যান। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময়ও এমনটা দেখা গিয়েছিল।
এমন মনোভাবের কারণ সম্পর্কে কলম্বিয়ার সমাজবিজ্ঞানী জার্মান গোমেজ এএফপিকে বলেন, আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকার সংহতির ধারা ভেঙে গেছে। ডিজিটাল যুগ এমন কিছু ধারণাকে উসকে দিয়েছে, যার ফলে মনে করা হচ্ছে- আর্জেন্টিনার দলটি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অত্যন্ত প্রিয়।

ব্রাজিলের সাও পাওলোর একটি শপিং সেন্টারে সান্তোস নামের এক সমর্থক বলেন, আর্জেন্টিনা রেফারিদের কাছে থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। তারা চতুর্থ শিরোপা পাওয়ার চেয়ে স্পেনের দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই উত্তম।
কলম্বিয়ার বোগোটার ২৮ বছর বয়সী হুয়ান কামিলো আবুসাইদও বলছেন, ‘আমরা স্পেনের জন্যই গলা ফাটাব।’
‘পুরোটাই রাজনৈতিক’
লিওনেল মেসিকে একজন কিংবদন্তি হিসেবে দেখেন মেক্সিকো সিটির ৫১ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা আন্তোনিও লোপেজ। তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আপনি যদি মাঠে ঘাম ঝরান এবং কঠোর পরিশ্রম করেন, তবে তা মেনে নেব। কিন্তু রেফারিরা যদি আপনাকে সাহায্য করতে আসে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে একটি বৃহৎ পরিসরেও আর্জেন্টিনাবিরোধীতা দেখা গেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম রসিকতা করে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ফাইনালে তাঁরা কোন দলকে সমর্থন করছেন। উত্তরে উপস্থিত সাংবাদিকরা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘স্পেন... স্পেন।’
মেক্সিকান নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক হোর্হে নেগ্রো খেলাধুলার সামাজিক প্রভাব নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলছেন, ‘চলতি বিশ্বকাপটি যে অত্যন্ত রাজনৈতিক, তা প্রমাণ হয়েছে।’ আর কলম্বিয়ার সমাজবিজ্ঞানী জার্মান গোমেজ বলেন, ম্যারাডোনাকে ফিফার ক্ষমতার মুখোমুখি হওয়া এক বিপ্লবী হিসেবে দেখা হতো। সেখানে মেসিকে ফিফার ‘আদরের সন্তান’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় রাজনীতিও আর্জেন্টিনার প্রতি এক ধরনের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর ২৯ বছর বয়সী বাসিন্দা রাচিদ শ্যোবার্গ বলছেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে বিন্দুমাত্র পছন্দ করি না। মেসিরা জিতলে মিলেই বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিজের নামে প্রচার করবেন। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারব না।’