স্ট্রাইক রেটে পিছিয়ে দেশিরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:৫৬
প্রতি দলে একজন লেগস্পিনার, একজন ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন পেসার, দেশি ব্যাটসম্যানদের নিজ নিজ পজিশনে খেলানো- এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল ঘিরে এমন দারুণ সব নিয়ম অনুসরণের কথা শোনা গিয়েছিল আয়োজক বিসিবি কর্তাদের মুখে। সব কথার সারকথা ছিল ২০২০ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য একটি স্কোয়াড খুঁজে নেওয়া।
ঢাকা আর চট্টগ্রাম পর্ব মিলিয়ে ২০টি ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর সেই স্কোয়াডের তত্ত্ব-তালাশ করতে গিয়ে মিলছে চমকপ্রদ তথ্য। বিশেষত ব্যাটিংয়ে। রান তোলায় এগিয়ে যথারীতি বিদেশিরাই। প্রথম চারে নেই দেশি কেউ। তবে পাঁচ নম্বরে ইমরুল কায়েস থেকে শুরু হয়ে সেরা দশের মধ্যে আছেন মোট চারজন। এক বা একাধিক ইনিংসে ঝলক দেখানো দেশি ব্যাটসম্যানও আছেন আরও কয়েকজন; কিন্তু রান করলেও একটি জায়গায় ঢের পিছিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। টি২০ ক্রিকেটে টি২০ সুলভ ব্যাটিংই পাওয়া যাচ্ছে না কারও কাছ থেকে।
কমপক্ষে ৪৭টি ডেলিভারি মোকাবিলা করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এক থেকে নয় পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউই নেই। দশ নম্বরে আছেন কেবল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। একশ'র বেশি বল খেললেও স্ট্রাইক রেটে বেশ পিছিয়ে জাতীয় দলে ওপেনিংয়ের জন্য বিবেচিত তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাঈম শেখ ও ইমরুল কায়েসরা।
আন্তর্জাতিক টি২০-তে দল যাদের ওপর নির্ভর করে, তারা না পারছেন দ্রুতগতিতে রান তুলতে, না পারছেন ইনিংস বড় করতে। এ পর্যন্ত সেঞ্চুরি হয়েছে দুটি, দুটিই বিদেশিদের (জনসন চার্লস ও ডেভিড মালান)। ৮০-ঊর্ধ্ব ইনিংস হয়েছে মোট আটটি; এর মধ্যে বাংলাদেশিদের মাত্র দুটি। মুশফিকুর রহিমের ৯৬ আর মোহাম্মদ মিঠুনের ৮৪*। অথচ দুটি করে ফিফটি আছে ইমরুল, তামিম ও মেহেদীদের। ঢাকা প্লাটুনে খেলা মেহেদী অবশ্য দুটি ফিফটিই করেছেন রানতাড়ায়।
নিয়মিত স্পিনার থেকে হুট করে তিন নম্বরে প্রমোশন পেয়ে যাওয়া এ ডানহাতি অবশ্য বড় শটেও এগিয়ে। পাঁচ ইনিংসে খেলা ৯৩ বলের মধ্যে ছয় হাঁকিয়েছেন ১০টি। ছক্কার দিক থেকে এটিই বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ। বেশি ছয়ের তালিকায় তার আগে অবস্থান ছয় বিদেশির। তবে সব ছাপিয়ে বিস্ময় ছড়াচ্ছে স্ট্রাইকরেটই। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এত বেশি ডট বল দিয়েছেন যে, স্ট্রাইকরেটে প্রথম নয়ের মধ্যেই কারও জায়গা হয়নি।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জার্সিতে মাহমুদুল্লাহ খেলেছেন তিনটি ম্যাচ। তিন ইনিংসে মোট ৪৭ বল খেলে তার রানসংখ্যা ৭৬, স্ট্রাইকরেট ১৬১.৭০; কিন্তু মাহমুদুল্লাহর চেয়ে বেশি বল খেলা ১৭ ব্যাটসম্যানের কারও স্ট্রাইকরেট দেড়শ'য় পৌঁছেনি। সর্বোচ্চ ১৪৫.১৬ ঢাকার মেহেদীর। সর্বোচ্চ রানের তালিকায় যারা প্রথম দশের মধ্যে আছেন, তাদের মধ্যে ইমরুল কায়েস ২৩৫ রান করতে খেলেছেন ১৬৬ বল; স্ট্রাইকরেট ১৪১.৫৬। ৭ নম্বরে থাকা তামিম ২০৪ রান করেছেন ১৭৪ বলে; দুটি পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংসের পরও তার স্ট্রাইক ১১৭.২৪।
জাতীয় দলের বর্তমান স্কোয়াডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ১২০-এর নিচে স্ট্রাইক আছে কেবল মোসাদ্দেক হোসেনের। ছয় ম্যাচে ১৩৮ বল খেলে ১৫২ রান করেছেন সিলেট থান্ডারের অধিনায়ক, স্ট্রাইক ১১০.১৪। সম্প্রতি ভারত সফরে অভিষিক্ত বাঁহাতি ওপেনার নাঈম শেখ ১২৮ বলে ১৫৬ রান করেছেন ১২১.৮৭ স্ট্রাইকরেটে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের সেরা দশে থাকা লিটনের স্ট্রাইক অবশ্য তুলনামূলক ভালো। ১৩২ বলে ১৮৭ রান করেছেন ১৪১.৬৬ হারে; আর মিঠুন ১৩০ বলে ১৭৯ করেছেন ১৩৭.৬৯ স্ট্রাইকে।
বলপ্রতি রান তোলার দিক থেকে মুশফিকুর রহিমও কাছাকাছিই। ১৪০ স্ট্রাইকরেটে ১১০ বলে করেছেন ১৫৪ রান; যদিও এক ইনিংসেই তুলেছিলেন ৯৬ রান। অতীত পারফরম্যান্সের দিক থেকে স্ট্রাইকরেটে হতাশ করেছেন সৌম্য সরকারও। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সে খেলা এ বাঁহাতি ১৪৭ রান করতে খেলেছেন ১১৪ বল, স্ট্রাইকরেট ১২৮.৯৪। এ নিয়ে বিপিএলের টানা চার আসর ধরে কোনো ফিফটিও নেই তার ব্যাটে। তবে সৌম্য এবারের আসরে ভিন্ন এক রূপে আবির্ভূত হয়েছেন বেশি। ছয় ম্যাচে ১৫.৫ ওভার বোলিংয়ে ৮ উইকেট নিয়ে সফল বোলারদের মধ্যে ৪ নম্বরে নাম তার।
ব্যাট হাতে দেশি ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকরেটের মতো বোলারদের ইকোনমিও খুব একটা ভালো নয়। কমপক্ষে দশ ওভার বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যে সেরা মেহেদী হাসান, ১৯ ওভারে রান দিয়েছেন ৬.৪৭ হারে। চট্টগ্রামে খেলা এ বাঁহাতি পেসার ১৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সফল বোলারদের শীর্ষে। এ ছাড়া অলক কাপালির ইকোনমি ৭.০০ (১৪ ওভার), মেহেদী ৭.১০ (১৯ ওভার), নাসুম আহমেদ ৭.৬১ (২১ ওভার) ও এবাদত হোসেন ৭.৬৬ (২১ ওভার)।
জাতীয় দলে খেলা পেসারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান ১৭.২ ওভার করে রান খরচ করেছেন ৭.৭৩ গড়ে, উইকেট পেয়েছেন ৬টি। আল-আমিন হোসেন ৭ উইকেট পেলেও ২০.৫ ওভারে দিয়েছেন ৯.২৬ করে। তবে চট্টগ্রাম পর্বে ১২ ম্যাচে ২২ ফিফটি ও ২ সেঞ্চুরিসহ মোট চার হাজার ১৮১ রান ওঠাকে হয়তোবা বোলাররা ঢাল বানাতে পারবেন, কিন্তু একই কারণে ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকরেট যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে?
- বিষয় :
- খেলা
- ক্রিকেট
- বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯
- বাংলাদেশ
