কী উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে মেটা
ড্যানিয়েল শাপেরো
মুস্তাফা তৌহিদ
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১১:২৮
দক্ষিণ এশিয়ায় মেটার অন্যতম বড় কেন্দ্রের অবস্থান সিঙ্গাপুরে। কদিন ধরে সারাবিশ্বে মেটা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা ঝড়। কারণ, কর্মী সংখ্যা কমানো। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেটার দপ্তরে কর্মীর
মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে সংস্থার চারটি বিভাগে জনবল কমানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে– ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, অপারেশন্স ও সাপোর্ট ফাংশন বিভাগ। নতুন করে মেটা আবার এআই অবকাঠামো আর এআই নিয়ন্ত্রিত পণ্যের মানোন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে কিছু বিভাগে ব্যয় কমিয়ে সংস্থাকে স্ট্রিমলাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন কারণেই পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী উদ্দেশ্য এর পেছনে
মেটার পর এবার চাকরি পুনর্বিন্যাসের পথেই হাঁটছে আরেক সংস্থা লিঙ্কডইন। নিউইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট বলছে, ইতোমধ্যে সংস্থাটি ৬০৬ জন কর্মীকে স্থায়ী ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই থেকে এই নোটিশ কার্যকর হবে। ওয়ার্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যান্ড রিট্রেইনিং নোটিফিকেশন ফাইলিং থেকে এসব তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়, গত সপ্তাহেই কর্মীদের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর আগে জানানো হয়েছিল, লিঙ্কডইন তাদের কর্মীর ৫ শতাংশ কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বে এখন লিঙ্কডইনের ফুলটাইম কর্মীর সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জনবল কমানোর নোটিশে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউ অফিসে। সেখানে সাড়ে তিন শতাধিক কর্মী চাকরি খুইয়েছেন। সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, সানিভেলে ও কার্পিন্টেরিয়ায় মেটার দপ্তরেও অস্থিরতা ছড়িয়েছে।
লিঙ্কডইনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল শাপেরো কর্মীদের উদ্দেশে অভ্যন্তরীণ মেমো বিলি করেছেন। রিপোর্ট বলছে, সেই মেমোতেই তিনি ছাঁটাই হবে– এমন আভাস দিয়েছেন। শাপেরো জানান, আমাদের কাজের ধরন নতুন করে তৈরি করতে হবে। দ্রুত কাজ করে এমন দল তৈরি করতে হবে। কারণ, দীর্ঘ মেয়াদে সংস্থার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এর জন্য কয়েকটি কঠিন অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।
আয় বেড়েছে, তবু অস্থিরতা
লিঙ্কডইনের ব্যবসার কিন্তু এখন বাড়বাড়ন্ত চলছে। মাইক্রোসফটের আর্থিক নথি থেকে জানা গেছে, চলতি বছরে মার্চের শেষে প্রথম ত্রৈমাসিকে লিঙ্কডইনের আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। তবুও এআইকেন্দ্রিক পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের জন্য কর্মী সংখ্যা কমানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এমন ঘটনা শুধু লিঙ্কডইনের ক্ষেত্রে নয়, মূল সংস্থা মাইক্রোসফটও নতুন করে বেআউট ঘোষণা করেছে। এর ফলে সংস্থার ৭ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ সাড়ে আট হাজারের বেশি কর্মী প্রভাবিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- মেটা
- সিঙ্গাপুর
- ইউরোপ
- যুক্তরাষ্ট্র
