ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গুদাম পর্যন্ত আসতে আসতে পাল্টে গেল ৫ ট্রাক সার!

গুদাম পর্যন্ত আসতে আসতে পাল্টে গেল ৫ ট্রাক সার!
×

যশোর অফিস

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২২ | ০৪:৫১ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০২২ | ০৪:৫১

নকল সন্দেহে যশোরের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের বাফার গুদামে ঢুকতে দেয়া হয়নি পাঁচ ট্রাক টিএসপি সার। নকল সন্দেহে ওই সার জব্দ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে-বিসিআইসিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে টিএসপি কর্তৃপক্ষের তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। ভেজাল সার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

গত ১৫ মার্চ রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি সার কারখানা থেকে পাঁচটি ট্রাকে করে ৮০ মেট্রিক টন টিএসপি সার যশোর বাফার গুদামে পাঠানো হয়। ১৭ মার্চ এসব ট্রাক যশোরে পৌঁছায়। কিন্তু সার দেখে সন্দেহ হলে খালাস বন্ধ করে বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তপক্ষকে অবহিত করেন গুদাম কর্তৃপর্ক্ষ। ওই দিনই ট্রাকসহ সার জব্দের নির্দেশ দেয় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ।

সারবোঝাই ট্রাকগুলো হলো- ঢাকা মেট্রো-ট-১৫-০১৩৬, ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-০৬২১, ঝিনাইদহ-ট-১১-১৩৪৮, ঝিনাইদহ-ট-১১-০৯১৬, ঝিনাইদহ-ট-১১-০৯৮২।

এদিকে রোববার টিএসপি কমপ্লেক্সের উপ-প্রধান রসায়নবিদ রেজাউল হক, ব্যবস্থাপক উৎপাদন শফিকুল কবীর ও বিসিআইসির উপ-প্রধান হিসাব রক্ষক নির্মল কুমার দত্ত যশোর আসেন। এসময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাকের কাগজপত্র, ট্রাভেল এজেন্সির কাগজপত্র পরীক্ষা করেন তারা। এছাড়া সব ট্রাকের সারের নমুনা সংগ্রহ করেন।

নাম প্রকাশ করার শর্তে যশোর বাফার গোডাউনের এক কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে যে সার যশোর গোডাউনে নামানো হচ্ছে, সেগুলো আসল সার নয়। এখন যে সারগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর বস্তার সেলাই টিএসপির সেলাইয়ের মতো নয়। এ সারগুলো পথে পাল্টে নকল সার ভর্তি করে বস্তাগুলো পুনরায় সেলাই করে বাফার গোডাউনে সরবরাহের জন্য আনা হয়েছিল।

যশোর বাফার গোডাউনের ইনচার্জ আকতারুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ মার্চ চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে পাঁচ ট্রাক সার আসে। এ সারের পরিবহনকারী ঠিকাদার হলো মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজ। সারগুলো নকল কি আসল তা বলতে পারবো না। তবে আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা সার খালাস না করে ট্রাকসহ গুদামের বাইরে রাখার নির্দেশ দেন।

আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, রোববার টিএসপি কমপ্লেক্সে লিমিটেডের পক্ষ থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা যশোরে এসে জব্দকৃত সারের নমুনা সংগ্রহ করে চট্রগ্রামের সার কারখানার পরীক্ষাগারে নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে দু-একদিনের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে।

গত ৯ জানুয়ারি যশোর বাফার গোডাউনে সার পরিহন করার জন্য চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটের পরিবহন ঠিকাদার মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয় টিএসপি কমপ্লেক্স। এরপর থেকে সার পরিবহন করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহনকারী ঠিকাদার মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আহসান হাবীব রুবেল দাবি করেন, এসব সার নকল না। যশোরে সন্দেহ হওয়ায় আমাদের পাঁচটি ট্রাক আটকে রাখা হয়েছে। এখন তারা (বিসিআইসি) কমিটি করেছেন। সার পাল্টে যাওয়ার কিংবা তাদের কাছ থেকে ভেজাল হয়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিসিআইসি উৎপাদন বিভাগের ব্যবস্থাপক শফিকুল কবির জানান, যশোর বাফার গোডাউনে নকল সার সরবরাহের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি টিম যশোর বাফার গুদামে পাঠানো সারের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষা করে নকল প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বাজারে ভেজাল সারে সয়লাব হয়ে গেছে। কোন সারের গুণগত মান ঠিক নেই। ভেজাল সার তৈরির প্রতিষ্ঠান বন্ধে অবিলম্বে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি তাদের।

চলতি বোরো মৌসুমে বাফার গোডাউন থেকে যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ৪৬০ জন ডিলারের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে এসব সার বিক্রয় করার কথা ছিল।

আরও পড়ুন

×