ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দেহাবশেষ নেওয়া হলো বাবা-মায়ের কবরের পাশে

৪৯ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা

৪৯ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা
×

তোফাজ্জল হোসেন -ফাইল ছবি

ইজাজ আহমেদ মিলন, গাজীপুর

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৭ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৮

সেদিন ছিল শুক্রবার। ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর। তুমুল যুদ্ধ চলছে সারা দেশেই। পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে বীর যোদ্ধারা প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই দিন বিকেলে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুরের ডুগরী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সভা আহবান করেন কমান্ডার জহিরুল ইসলাম। যুদ্ধের নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় রাত পর্যন্ত। গাজীপুর মহানগরের (বর্তমান) ভোগড়া এলাকার সাবেদুল্ল্যা সরকারের ছেলে এসএম তোফাজ্জল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বীর যোদ্ধা সেই সভায় অংশ নেন। কিন্তু রাত গভীর হয়ে যাওয়ায় তারা এলাকায় ফিরতে পারেননি। জহিরুল ইসলামের বাড়িতেই রাত যাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে রাজেন্দ্রপুরে অবস্থান করা পাকিস্তানী বাহিনীকে স্থানীয় রাজাকররা ওই সভার খবর পৌঁছে দেয়। পরদিন ১৬ অক্টোরবর শনিবার ভোরে ওই বাড়ি আক্রমণ করে পাকিস্তানী বাহিনী। হত্যা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনকে। স্থানীয়রা রক্তমাখা তোফাজ্জলকে ডুগরী এলাকাতেই ওই সময় দাফন করেন।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনকে তার পৈত্রিক ভিটা ভোগড়া এলাকায় বাবা-মায়ের পাশে পুনরায় দাফন করা হলো। শুক্রবার বিকেলে ডুগরী থেকে তার হাড়গুলো তুলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে জানাজার পর বাবা মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

শহীদ তোফজ্জলের ভাই আলতাফ হোসেন বলেন, চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। সবার বড় বলে মা বাবা আদরটা একটু বেশিই করতেন। বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল তাদের শহীদ এই সন্তানের হাড়গুলো হলেও যেন তাদের পাশে রাখা হয়। বাবা মায়ের ইচ্ছা পূরণের জন্য ৪৯ বছর পর পারিবারিক কবরস্থানে বড় ভাইয়ের দেহাবশেষ নিয়ে পুনরায় দাফন করা হলো।

দাফনের আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল, মুক্তিযোদ্ধা  মো. আব্দুস সাত্তার মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমান উদ্দিন, অধ্যাপক আব্দুল বারী শহীদ তোফাজ্জলের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট  মো. হারুন অর রশিদ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×