ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

স্কুলের বনভোজনে না গিয়ে অন্যদের সঙ্গে যাওয়ায় ১৮ ছাত্র বহিষ্কার

স্কুলের বনভোজনে না গিয়ে অন্যদের সঙ্গে যাওয়ায় ১৮ ছাত্র বহিষ্কার
×

বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলগেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বহিষ্কৃত ১৮ ছাত্র ও তাদের অভিভাবকরা। ছবি: সমকাল

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:১৩ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:২৬

নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বনভোজনে অংশ না নিয়ে আলাদাভাবে বনভোজনে যাওয়ায় ১৮ ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছেন প্রধান শিক্ষক। বহিষ্কৃত ছাত্ররা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ঘটনা তদন্তে বুধবার রাতে তিন সদস্যের তদন্ত কামিটি গঠন করা হয়েছে। 

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহের মো. শামসুজ্জামনকে। অন্য দুই সদস্য হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিরাজুল ইসলাম ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। বৃহস্পতিবার স্কুলে গিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেন তারা। এদিকে সকাল ১০টার দিকে স্কুলগেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বহিষ্কৃত ১৮ ছাত্র ও তাদের অভিভাবকরা।

বহিষ্কৃত ছাত্র ও তাদের অভিভাবকেরা জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জমির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ৫টি বাস নিয়ে রংপুরের জমিদারবাড়ী তাজহাট, বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্দ ও আনন্দ নগর বিনোদনকেন্দ্রে বনভোজনে যায়। এতে শিক্ষার্থী প্রতি চাঁদা ধরা হয় ৪০০ টাকা। কিন্তু স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির রাকিব, লিটন, জুনকার নাঈম, আতিক, রাকিবুল ও রবিউল, ৭ম শ্রেণির আরিফ ও সোহানুর, ৮ম শ্রেণির সাজ্জাদ, খায়রুল, নূরনবী, আবু আনাস, জুয়েল ও মোস্তফা, ৯ম শ্রেণির সুজন, মোতাহার, মাহমুদুল ও ররিউল স্কুলের বনভোজনে অংশ নেয়নি। তারা একই এলাকার অন্য একটি আয়োজক দলের সঙ্গে কম টাকায় বনভোজনে অংশ নেয়। 

বহিষ্কৃত ১৮ ছাত্র জানায়, তাদের বাবা-মার পক্ষে ৪০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্কুলের বনভোজনে না গিয়ে কম টাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে বনভোজনে গিয়েছিল তারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুল থেকে ১৮ জনকে বহিষ্কার করেন প্রধান শিক্ষক।

তকেয়া পাড়া গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র লিটন ও আতিক বাবু জানায়, টাকা না থাকায় তারা স্কুলের ও স্থানীয় বনভোজন কোনটিতেই অংশ নেয়নি। এরপরেও তাদেরসহ ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই ছাত্ররা স্থানীয় বখাটেদের আয়োজিত বনভোজনে অংশ নেয়। স্থানীয় বখাটেরা একই দিনে একটি বাস ও দু'টি মাইক্রোবাস নিয়ে সারাদিন আমাদের অনুসরণ করে। আমরা যেখানেই গিয়েছি তারাও সেসব স্থানে গিয়ে স্কুলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করেছে। ওই ১৮ ছাত্রও তাদের সঙ্গে ছিল। বনভোজনে স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ছিলেন। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তবে স্কুলের বনভোজনে অংশ নেওয়া ৯ম শ্রেণির ছাত্রী হোমায়রা আক্তার বলেন, স্থানীয় বখাটেরা বনভোজনে গিয়ে উত্যক্ত করেছে ঠিকই, তবে আমাদের স্কুলের ওই ১৮ ছাত্র কাউকে উত্যক্ত করেছে- এমনটা দেখিনি। 

স্থানীয় মাহমুদুল হাসান ও মাসুদ রানা বলেন, প্রধান শিক্ষক ১৮ ছাত্রকে কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই বহিষ্কার করেছেন। অভিযুক্ত ছাত্রদের অভিভাবকদের না জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই। ছাত্রী উত্যক্তের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্ররা কাউকে উত্যক্ত করবে এটা আমাদের বিশ্বাস হয় না।

তদন্ত কমিটির প্রধান আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছে। এরপর বুধবার রাতেই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ইউএনও মহোদয়। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×