জিল বাংলা চিনিকল
মাঠে আখ রেখেই মৌসুম শেষ, পূরণ হয়নি চিনির লক্ষ্যমাত্রা
ফাইল ছবি
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৮:২১
মাঠে আখ রেখেই মাড়াই মৌসুম শেষ করেছে দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা চিনিকল লিমিটেড। বন্ধ রয়েছে চাষিদের কাছ থেকে আখ ক্রয়। এতে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ২০২২-২৩ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি মাত্র ৪১ দিন আখ মাড়াই করে। তবে মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, আখস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।
৬৮ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ৭৬০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ২ ডিসেম্বর ২০২২-২৩ আখ মৌসুম শুরু করে চিনিকলটি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এ মৌসুমে ৬০ দিন আখ মাড়াই করার কথা। এর মধ্যে গত ১২ জানুয়ারি ৪১ দিনে ৩৫ হাজার ১৭১ টন আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদন করে ২ হাজার ৩২২ টন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখ মাড়াই মৌসুম সমাপ্ত বা আখ মাড়াই বন্ধ হলেও মিল এলাকায় এখনও ৩৫০ একর জমিতে আখ রয়েছে, যার পরিমাণ অন্তত ১২ হাজার টন। এই আখ মণ হিসেবে স্থানীয় আখ মাড়াইকারী বা গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করছেন চাষিরা। মিল এলাকায় আখ মাড়াই করে গুড় উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না এ অঞ্চলের অনেক আখ চাষি। যে পরিমাণ আখ এখনও মাঠে রয়েছে, তা সরবরাহ করলে আরও অন্তত ১০ দিন আখ মাড়াই চলত মিলটিতে। এতে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি পেত বলে ধারণা সংশ্নিষ্টদের।
গত মঙ্গলবার মিল এলাকার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা ক্ষেতের আখ কেটে আখ মাড়াইকারী বা গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করছেন। গুড় উৎপাদনকারীরা মিল বন্ধের সুযোগে কৃষকের কাছ থেকে ৪০ মণ আখ ১১ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছেন।
চাষিরা জানান, ৪০ মণ আখ মিলে সরবরাহ করে ৭ হাজার টাকা পান তাঁরা। সে হিসাবে প্রতি ৪০ মণ আখে ৪ হাজার টাকা বেশি পাচ্ছেন চাষিরা। এ কারণে চাষিরা মিলে আখ সরবরাহ না করে স্থানীয় আখ মাড়াইকারী বা গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করছেন। এখনও মাঠে আখ রয়েছে মাইছানীরচর, চরকালিকাপুর, তারাটিয়া, কলকিহারা, মেরুরচর, গোয়ালেরচর, ইসলামপুর, গংগাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে।
চরকালিকাপুর গ্রামের মো. ছইরুদ্দিন বলেন, তিনি ৪০ মণ আখ ১০ হাজার টাকায় এক মাস আগে গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করছেন। মিলে আখ সরবরাহ করে ৪০ মণ আখে পাওয়া যায় ৭ হাজার টাকা। স্থানীয়ভাবে বিক্রি করায় ৪০ মণ আখে বেশি পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা।
মাইছানীরচরের চাষি ইউনুছ আলীর ভাষ্য, ৪০ মণ আখ ১১ হাজার টাকা দরে গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে মিলে আখ সরবরাহের তুলনায় বেশি লাভ পাচ্ছেন।
জিল বাংলা চিনিকল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আনোয়ার হোসেন জানান, মিল এলাকায় স্থানীয়ভাবে গুড় উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না অনেক আখ চাষি। মিলে আখ সরবরাহের জন্য চাষিদের শুরু থেকেই তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জিল বাংলা চিনিকল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, এখনও মাঠে অনেক আখ রয়েছে। চাষিরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাড়াই মৌসুমে মিলে আখ সরবরাহ করেননি। এতে মিলটির অনেক ক্ষতি হয়েছে। সামনের মৌসুমে আখ চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আখ বীজ চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- জিল বাংলা চিনিকল
- আখ ক্রয়
- আখ মিল
