স্কুলের ভবন দখলের অভিযোগ সাবেক সভাপতি বিরুদ্ধে
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৮:১৮ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৮:১৮
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৫৮নম্বর মুক্তারকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমান বিরুদ্ধে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
স্থানীয়রা জানান, স্কুলটির নতুন ভবন নির্মাণের পর পুরাতন ভবন ও মাঠ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত কাছে ব্যবহার করছেন মজিবুর রহমান। এছাড়া স্কুলের সঙ্গে গোয়াল ঘরে তৈরি করে পালন করছেন গরু। এতে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলটির পুরাতন ভবন ও মাঠ ব্যক্তিগত কাছে ব্যবহার করছেন মজিবুর রহমান। মাঠে পড়ে রয়েছে গরুর খড়। ভবনে ছাদে শুকানো হচ্ছে ধান। এছাড়া স্কুলের সঙ্গে গোয়াল ঘর রাখায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিলুফা জাহান বলেন, স্কুলের কাছেই সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খানের বাড়ি। এ সুযোগে তিনি স্কুলের পুরোনো ভবনের একটি কক্ষ, টয়লেট ও ভবনের ছাদ দখল করে ধান শুকান ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন। এছাড়া ভবনের সঙ্গে গোয়াল ঘর তৈরি করে পালন করছেন গরু। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে সাবেক সভাপতি ও তার স্ত্রী স্কুলের মাঠে রাখা মাটি ও বালু নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাধা দেই। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন ও আমার গায়ে জুতা ছুড়ে মারেন। ওই সময় আমি তাদের বলি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাবো। জবাবে মজিবুর রহমান বলেন- ‘তারা আমার কী করবে।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে মজিবুর রহমান স্কুলের নতুন ভবনের পেছনের খালে এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলে বাঁধ দেন। এতে পানির স্রোতে স্কুলের পাশের বাঁধের অংশ ও ভবনের পাইলিং ভেঙে গিয়ে ভবনটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

নিলুফা জাহান বলেন, স্কুল দখলের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি রনি খান বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খান যখন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তখন তিনি পুরাতন ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষের চাবি শিক্ষক নিলুফা জাহানের কাছ থেকে নিয়ে রাখেন। সেখানে কিছুদিন তার জমির কাজের জন্য আনা শ্রমিকদের রেখেছিলেন। আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই শিক্ষককে তার কাছ থেকে চাবি নেওয়ার জন্য বলেছি। আর মাঠে রাখা খড় সরিয়ে নিতে বললে- তা সরিয়ে নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মজিবুর রহমান খান বলেন, স্কুলের পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে আমার ছেলের মোটরসাইকেল রাখতো। এখন আর রাখে না। ওই কক্ষের চাবি আমি আজই স্কুলের শিক্ষককের কাছে দিয়ে দেব। আর গোয়াল ঘরটি স্কুল তৈরির সময় থেকেই ওই জায়গায় আছে। মাঠের খড় সরিয়ে নিয়েছি। খালের বাঁধ এলাকাবাসী দিয়ে ছিল।
কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, শ্রেণিকক্ষ, ভবনের ছাদ ও খেলার মাঠ দখল করে ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
