ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

আমতলী থানার ওসি মনোরঞ্জন মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের

আমতলী থানার ওসি মনোরঞ্জন মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের
×

মনোরঞ্জন মিস্ত্রি

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৩১

বরগুনার আমতলী থানায় পুলিশ হেফাজতে একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তকৃত ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির (সাময়ীক বরখাস্তকৃত) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেনের কাছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের করা লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাতে আমতলী থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য বরগুনা ডিবির (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

মামলার এজাহার ও শানু হাওলাদারের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে গত বছরের ৩ নভেম্বর ইব্রাহিম নামে এক কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় শানু হাওলদারকে ২৩ মার্চ রাত সাড়ে এগারটায় সহেন্দভাজন আসামি হিসেবে ধরে নিয়ে আসে পুলিশ। থানায় আনার পর আমতলী থানা ওসি আবুল বাশার (প্রত্যাহার) ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি (সাময়ীক বরখাস্তকৃত) ইব্রাহিম হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকি দিয়ে শানুর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে শানুর পরিবার। টাকা না পেয়ে আসামি শানু হাওলাদারকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের কথা জানতে পেরে আসামির ছেলে সাকিব হোসেন ২৪ মার্চ ওসি আবুল বাশারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। কিন্তু তাতে তিনি তুষ্ট হননি। টাকা কম হওয়ায় শানুর উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ২৫ মার্চ পরিবারের লোকজন থানায় এসে শানু হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ তা না দিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে তাড়িয়ে দেয় এমন অভিযোগ নিহতের ছেলে সাকিব হোসেনের। গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল সোয়া ছয়টার দিকে আসামি শানু শৌচাগারে যাওয়ার কথা বললে পুলিশ তাকে শৌচাগারে নিয়ে যায়। পরে এক ফাঁকে শানু হাওলাদার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির কক্ষে ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন ওসি আবুল বাশার। ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষ থেকে অর্ধনগ্ন শানু হাওলাদারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনা তদন্তে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এবং বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার-ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে  সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং ২৭ মার্চ পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের এক আদেশে বরিশাল ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলামের নির্দেশে ও পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে ওসি আবুল বাশারকে আমতলী থানা থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। 

এদিকে গত মঙ্গলবার ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বরগুনা পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেনের কাছে শানুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই আইনজীবীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাতে পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদারকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমতলী থানার সাবেক ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির (সাময়ীক বরখাস্ত) বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য বরগুনার ডিবি (ওসি) মো. হারুন অর রশিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওসি মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে কাজ শুরু করেছি। 


আরও পড়ুন

×