ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ক্রিপ্টোকারেন্সি

মার্কিন ঋণে যুদ্ধের খরচ মিটিয়েছে ইরান?

মার্কিন ঋণে যুদ্ধের খরচ মিটিয়েছে ইরান?
×

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে অন্যতম প্রভাব রেখেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। ইলাস্ট্রেশন: সমকাল

সাদিকুর রহমান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৫৭ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৪৪

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ, সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তী আলোচনাগুলো বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে সামনে আসছে তেল, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচির মতো ইস্যু। এই ডামাডোলের মধ্যে একটি বিষয় অনেকটাই আড়ালে ছিল। যা গত বুধবার নতুন করে সামনে এসেছে। সেটি হলো- ক্রিপ্টোকারেন্সি।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএস অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকস’-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয় করেছেন। যেটির একাংশ এসেছে নিজের ও পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো স্টার্টআপ ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ বা ডব্লিউএলএফ-এর মাধ্যমে।

ডিজিটাল মুদ্রার এই জগতে ‘ডলার ট্রাম্প’ নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সির লাইসেন্স চুক্তি বাবদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট রয়্যালটি পেয়েছেন ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ট্রাম্পের এই আয় এসেছে গত এক বছরে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর। গত বছর ক্ষমতায় বসেই তিনি এই ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেনের ওপর কড়াকড়ি শিথিল করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন ডব্লিউএলএফের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ উইটকফকে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পূর্ববর্তী পারমাণবিক আলোচনা এবং যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়া- উভয় ক্ষেত্রেই আলোচকের ভূমিকায় আছেন উইটকফ। আর মধ্যস্থকারী হিসেবে বড় ভূমিকা রাখছে ক্রিপ্টোকারেন্সির তৃতীয় বৃহত্তম খুচরা বাজার হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান।  

প্রশ্ন হলো- ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর যুদ্ধংদেহী অবস্থানের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্পর্ক কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন জাতীয় ঋণের সঙ্গেই বা এটি কীভাবে যুক্ত? বিষয়টি বোঝার আগে এই মুদ্রার লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা জরুরি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কী?
সহজভাবে বলতে গেলে এটি একটি ডিজিটাল মুদ্রা। ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে এর লেনদেনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন ইয়ান স্ট্রোজিক। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের অলাভজনক সংস্থা ‘অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি)’-এর ডেটা সম্পাদক।

স্ট্রোজিক বলেন, প্রচলিত টাকা ও আর্থিক লেনদেনের তুলনায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের কিছু সুবিধা আছে। এই সুবিধাগুলোর একটি হলো- পরিচয় প্রকাশ না করেই, লেনদেন করা যায়। ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে পরিচয়পত্র দেখতে চাইবে। এক সঙ্গে অনেক অর্থ জমা করতে গেলে উৎস সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারে। 

স্ট্রোজিক বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রযুক্তিগতভাবে কিছুটা আলাদাভাবে কাজ করে। এটি নিয়ন্ত্রণের কোনো একক কর্তৃপক্ষ নেই। তাই ব্যাংকের মতো লেনদেন নিয়ন্ত্রণের কোনো বিষয়ও এখানে থাকে না। 

প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় লেনদেন হয়- ‘সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন’ বা সুইফটের মাধ্যমে। এটি একটি সুরক্ষিত আন্তর্জাতিক মেসেজিং নেটওয়ার্ক, যা বিশ্বের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে অপরের সঙ্গে নিরাপদে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে।

অপরদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হয়- ‘ব্লকচেইন’ নামক একটি সুরক্ষিত ও জটিল কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। যেখানে প্রচলিত কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে না।

ইরান কীভাবে যুক্ত?
২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর দেশটির বিভিন্ন ক্ষেত্রের ওপর ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্ররা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি ও পরিবহনকারী জাহাজগুলোর ওপর।

একই বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানে একটি বিকল্প ক্রিপ্টো-ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হয়। যেটির প্রতিষ্ঠাতারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের ঘনিষ্ঠ। ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের ওই প্ল্যাটফর্মটির নাম- নোবিটেক্স। বৃহস্পতিবার নোবিটেক্সের ওয়েবসাইটে গ্রাহক সংখ্যা দেখানো হয় ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখ। ইরানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি।

গত মে মাসে প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। বলা হয়, নোবিটেক্সের মাধ্যমে প্রায় ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ৭২০ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি সংস্থাগুলোও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন করে। যার মধ্যে আছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। 

নোবিটেক্সের লেনদেন সম্পর্কে ধারণা রাখে এমন তিনটি ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী ফার্মের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও প্ল্যাটফর্মটির লেনদেন প্রক্রিয়া চালু ছিল। ক্রিস্টাল ইন্টেলিজেন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ওই সময় নোবিটেক্সে ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের লেনদেন সম্পন্ন হয়। যা তাদের স্বাভাবিক সময়ের কার্যক্রমের প্রায় ২০ শতাংশ।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের লেনদেনের গতিপথ লুকিয়ে রাখতে নোবিটেক্স তহবিল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত ওয়ালেট অ্যাড্রেসগুলো বারবার পরিবর্তন করে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাড়তে থাকা কড়াকড়ির কথা মাথায় রেখে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ওয়ালেটগুলোর মধ্যকার সংযোগ আরও অস্পষ্ট বা গোপন করার জন্য তারা নিজস্ব ক্রিপ্টোগ্রাফিক টুলও তৈরি করেছে।

ইরানি রিয়াল+নোবিটেক্স=ডলার
আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার প্রায় আবশ্যক মুদ্রা। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার বিশ্লেষণকারী নিউইয়র্কভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘মোবি’ বলছে, নোবিটেক্সের মাধ্যমে তেহরান সহজেই তাদের মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করতে পারে। 

ইয়াহু ফিন্যান্সে প্রকাশিত মোবির এক নিবন্ধ অনুযায়ী, মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান- যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইআরজিসি তাদের তহবিলগুলো ইরানি রিয়াল বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নোবিটেক্স অ্যাকাউন্টে জমা করে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে ব্যবহৃত হয় ‘ইউএসডিটি’ নামের স্টেবলকয়েন। এর মান সবসময় ১ মার্কিন ডলারের সমান থাকে।

ইউএসডিটি-এর পুরো নাম ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডলার টেথার’। ক্রিপ্টো জগতে এই কয়েনের রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণ করে টেথার হোল্ডিংস নামের একটি মার্কিন কোম্পানি। গত মার্চ মাসে ব্লুমবার্গে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এই কোম্পানি কড়া নজরদারিতে ছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পরপরই তা শিথিল করা হয়।

মার্কিন ঋণ, টেথার ও যুদ্ধের খরচ
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৯ দশমিক ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার। যার একাংশ নেওয়া হয়েছে ট্রেজারি বিল (স্বল্পমেয়াদি ঋণপত্র) বিক্রির মাধ্যমে। এর মধ্যে ১১৭ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিলই কিনেছে টেথার। স্বর্ণ কিনেছে ১৩২ মেট্রিক টনের সমান। সরকারি কোষাগারে এই বিপুল বিনিয়োগ বা সরকারকে ঋণ দেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির চালু করা স্টেবলকয়েনের (ইউএসডিটি) মানও সবসময় মার্কিন ডলারের সমান থাকে।

ডেটা বিশ্লেষণের কানাডাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘ভিজ্যুায়াল ক্যাপিটালিস্ট’ গত জুন মাসের এক প্রতিবেদনে বলে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেথারের মার্কিন ট্রেজারি বিল বা বন্ডের মজুত ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির স্বর্ণের রিজার্ভও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতির এই চক্রে একটি ঘটনা বেশ আকর্ষণীয়। টেথার মার্কিন সরকারের অন্যতম ঋণদাতা। এই আস্থার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে তাদের মুদ্রার (ইউএসডিটি) লেনদেন গতিশীল ও ডলারের সমান মান বজায় থাকছে। ক্রিপ্টোর জগতে ইরান ইউএসডিটির অন্যতম ব্যবহারকারী ও এর মাধ্যমে তাদের নিজস্ব মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করছে। এই চক্রে মার্কিন ঋণের বোঝা, টেথারের মুদ্রা ও ইরানের নোবিটেক্সের লেনদেন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। 

মোবি বলছে, একটু ভিন্নভাবে দেখলে- যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝাই দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ মেটাতে ইরানকে সাহায্য করেছে। 

গত ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানায়, ইরানি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আইআরজিসি ক্রিপ্টোর অন-চেইন লেনদেনের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। প্রচলিত আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় এই লেনদেন জব্দের উপায় না থাকায়; তেল বিক্রি, অস্ত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রিপ্টো ইরানকে একটি বড় সুবিধা দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও মূল্য পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে এটি ব্যবহার হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ
প্রায় এক মাসের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। ইসলামাবাদে সংলাপে বসেন ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় ১২ এপ্রিল। পরদিনই ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। কাছাকাছি সময়ে ক্রিপ্টোর জগতেও একটি বড় পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

সিএনএনে গত ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করে। ওই সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তেহরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। 

বেসেন্ট ঘোষণা দেন, ‘তেহরান মরিয়া হয়ে দেশের বাইরে যে অর্থ পাচারের চেষ্টা করছে, আমরা সেই অর্থের উৎস খুঁজে বের করব। এই শাসনব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সব ধরনের আর্থিক লাইফলাইনকে (সহায়তার পথ) লক্ষ্যবস্তু বানাব।’

ডিজিটাল ওয়ালেটে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ইরানের পক্ষ থেকেও তখন কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে কাছাকাছি সময়ে টেথারের পক্ষ থেকে বলা হয়- ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের কাজে তারাই মার্কিন প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছে। 

আরও পড়ুন

×