ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কার্যাদেশের ৯ মাস পর সেতুর দরপত্র বাতিল

কার্যাদেশের ৯ মাস পর সেতুর দরপত্র বাতিল
×

মশিউল হক মিটু, কালিয়া (নড়াইল)

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

 ঠিকাদার নিয়োগের ৯ মাস পর নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় চিত্রা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল হয়েছে ঠিকাদারকে দেওয়া কার্যাদেশ। ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় গত ৩১ মে দরপত্র বাতিল হয়। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

 উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে কালিয়া-গোপালগঞ্জ সড়কের কলাবাড়িয়া এলাকায় চিত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ। ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট সেতুর মাঝখানের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের ১৯ জুলাই ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেতুর ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬০৬ টাকা। ওই বছরের ২৩ আগস্ট নড়াইলের ‘আলমগীর এসইজেভি’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

নতুন সেতু নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারেননি। এ কারণে চুক্তি বাতিল করতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন ঠিকাদার।

কলাবাড়িয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম লুলুসহ স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ৯ মাস আগে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও সেই দরপত্র বাতিল হয়েছে। কাজটি শুরুই হলো না, আবার কতদিনে শেষ হবে কে জানে?

কলাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান কায়েস বলেন, কালিয়ার মানুষের গোপালগঞ্জ তথা রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। ফলে নতুন সেতু নির্মাণকাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণসহ সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

ঠিকাদার আলমগীর স্বপন বলেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ তাঁকে কাজটি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। এ কারণে তিনি কাজ শুরু করতে পারেননি। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার কারণে তিনি কাজ করবেন না বলে চুক্তি বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। পরে দরপত্রসহ কার্যাদেশের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

ইউএনও রুনু সাহা বলেন, পুরোনো সেতুতে ভারী যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই সেতুর দুই পাশে গাছের গুঁড়ি পুঁতে রাখা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণসহ সেতুর কাজটি যাতে দ্রুত করা যায় সে বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

নড়াইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিত কুমার কুণ্ডু বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুর নির্ধারিত স্থানে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।

আরও পড়ুন

×