ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই সন্দ্বীপে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই সন্দ্বীপে
×

সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সন্দ্বীপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে- সমকাল

সন্দ্বীপ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের সন্দ্বীপেও দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এবং ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ নিয়ে রোগী ভর্তি হলেও, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই আলাদা কোনো ওয়ার্ড। হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। আবার হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ না থাকায় বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে করাতে হয় ডেঙ্গু পরীক্ষা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত সচেতনতামূলক কোনো কর্মসূচি পালন করেনি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনজন। তবে ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত দু’জন রোগীকে রাখা হয়েছে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে। এতে সাধারণ রোগীদের মধ্যেও ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে হাসপাতাল ও আশপাশে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ পড়ে রয়েছে। চারপাশের পানি চলাচলের ড্রেনেও জমে থাকতে দেখা গেছে নোংরা পানি।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে স্কুলছাত্রী হুমাইরা আফরিন (১৬)। আফরিনের মা তাসলিমা বেগম সমকালকে বলেন, ‘চার দিন ধরে মেয়ের জ্বর ছিল। স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শে ডেঙ্গুর টেস্টও করিয়েছি। ডাক্তার ডেঙ্গু শনাক্ত করতে পারেননি। তিনবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানকার ডাক্তার টেস্টের রিপোর্ট দেখে বলেছেন আমার মেয়ের ডেঙ্গু হয়েছে।’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। ৮০০ টাকা খরচ করে বাইরের ক্লিনিক থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হয়েছে। এর সঙ্গে অন্যান্য টেস্ট তো আছে। সব মিলেয়ে তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।’

উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. কারিমুল মাওলা বলেন, ‘সন্দ্বীপে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী কম। যারা আসছেন যথাসাধ্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি তৈরি হলে চট্টগ্রাম রেফার করা হয়। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা সেল করার বিষয়ে আমাদের মিটিংয়ে পরিকল্পনা হয়েছে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে– জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানস বিশ্বাস বলেন, ‘কাল-পরশু সচেতনতামূলক মাইকিং করা হবে। স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্যাথলজি বিভাগ চালুর জন্য ল্যাব টেকনেশিয়ানের জন্য চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য আলাদা সেল গঠন করা হবে। সব মিলিয়ে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছি আমরা।’

আরও পড়ুন

×