ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

দরিদ্রতাকে সঙ্গে নিয়ে জিপিএ ৫ পেল যমজ বোন হীরা-মুক্তা

দরিদ্রতাকে সঙ্গে নিয়ে জিপিএ ৫ পেল যমজ বোন হীরা-মুক্তা
×

ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদের সঙ্গে তাসনিয়া ফারিন হীরা এবং অবন্তি মেহের মুক্তা

যশোর অফিস

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৩ | ১২:০৯ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৩ | ১২:০৯

যশোরের ঝিকরগাছায় যমজ বোন তাসনিয়া ফারিন হীরা এবং অবন্তি মেহের মুক্তা জিপিএ ৫ পেয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় স্থানীয় বদরুদ্দিন মুসলিম হাই স্কুল (বিএম) থেকে বিজ্ঞান বিভাগ তারা দুজনেই জিপিএ ৫ পায়। নিজেদের প্রবল ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টায় শত বাধা পেরিয়ে দারিদ্রতাকে জয় করে এসএসসিতে অর্জিত এ ফলাফলে নিজের পরিবার ও এলাকায় বইছে আনন্দের উল্লাস। 

হীরা-মুক্তা উপজেলার পৌর শহরের কৃষ্ণনগর মন্ত্রীপাড়ার মনজুরুল ফয়েজ ও হাফিজা বেগম দম্পতির সন্তান। তাদের বাবা প্রতিবন্ধী ও মা কাপড় সেলাই করে সংসারের খরচ জোগান।

ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বলেন, দরিদ্রতার সঙ্গে বসাবস করা হিরা ও মুক্তার ফলাফলে আমরা খুশি। তাদের দুই বোনের কথাবার্তা, চালচলন, ক্লাসে বসা, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া-সবই এক রকম। তাদের সবকিছুতে অদ্ভুত মিল। তারা দুজনই কলেজের গর্ব। তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ হোক।

এই যমজ বোনের মা হাফিজা বেগম বলেন, আমাদের সংসারে তিনটি মেয়ে, তারা আমার সংসারকে আলোকিত করে রেখেছে। আমার স্বামী একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে বেতন না থাকায় তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। তারপর থেকে সে কোন কাজ না পেয়ে এখন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। আমি ঘরে বসে দর্জির কাজ করে আমার মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। কখনও অর্ধাহারে কখনও অনাহারে আমার মেয়েরা মানুষ হওয়ার যুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আমার হিরা ও মুক্তা ভালো ফলাফল করেছে। আর বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার তন্নী যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে এমএ শেষ বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেবে। ভালো ফলাফল করলেও হীরা-মুক্তার কলেজে ভর্তি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

অবন্তি মেহের মুক্তা বলে, আমার মা আমাকে ডাক্তার হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু আমার এ আশা বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর মতো। আদৌ পড়াশোনা করতে পারব কিনা সেই দুশ্চিন্তায় আছি।

অপর জমজ বোন তাসনিয়া ফারিন হীরা জানায়, আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সেই স্বপ্ন নিয়ে চলছি। যশোর সরকারি এম এম কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা আছে; দেখা যাক। জমজ এই দুই বোন আরও জানায়, বিএম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদসহ সকল শিক্ষকের সহযোগিতা এবং মায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ভালো রেজাল্ট করতে সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুন

×