ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেড়িবাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আনোয়ারার লাখো মানুষ

বেড়িবাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আনোয়ারার লাখো মানুষ
×

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৩ | ০৪:৪০ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৩ | ০৪:৪২

১৯৯১ সালের প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তখন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে প্রাণ হারান ১২ হাজার মানুষ। সেদিন আড়াইশ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের থাবায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেড়িবাঁধ। পরে একাধিকবার সংস্কার হলেও বাঁধের অনেক স্থান এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই। তাদের আশঙ্কা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানি যে কোনো সময় প্রবেশ করতে পারে। প্লাবিত হতে পারে আনোয়ারার রায়পুর, জুঁইদণ্ডী, বারশতসহ বরুমচড়া, বারখাইন, হাইলধর ও চাতরী ইউনিয়ন।

উপকূলবাসীর দাবির প্রেক্ষাপটে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর চেষ্টায় বাঁধ সংস্কারে একনেকে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় বাঁধের কিছু অংশে ব্লক বসানো হয়। কিন্তু পুরো বেড়িবাঁধে ব্লক বসেনি। এতে ব্লক না বসানো অংশ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ারা উপকূলের শঙ্খ নদ ও বঙ্গোপসাগর অংশে কয়েকটি স্থানে বাঁধের একাংশ ধসে গেছে। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বারো আউলিয়া ঘাট, বেইজ্ঞার ঘাট, পূর্ব গহিরা বরফকল থেকে কোস্টগার্ড জেটি পর্যন্ত বাঁধ, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাঁধ, লামার বাজার এলাকা থেকে গোদারপাড় এলাকার বাঁধ, বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ এলাকার বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবছার জানান, বন্যার ও জোয়ারের পানির চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে বেড়িবাঁধ নিয়ে তারা আতঙ্কে আছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষা করা না গেলে ভিটেমাটি, ফসল, জমি ও গাছপালার অস্তিত্ব থাকবে না। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক সময়ে মেরামত না করায় বেড়িবাঁধ এমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, লামার বাজার থেকে বানুরহাট পর্যন্ত এলাকায় নদীভাঙন রোধে ব্লক দিলেও বাঁধ সরু আইলে নির্মাণ করেছে। এতে জলোচ্ছ্বাসে আট-দশ ফুট পানি হলেও প্লাবিত হবে এলাকা। যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা মেরামতের উদ্যোগ না নিলে জুঁইদণ্ডীবাসী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিন শরীফ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় আঘাত বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মোকাবিলা করতে পারবে না। দ্রুত এ বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে উপকূলের মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, আনোয়ারার উপকূলে রায়পুর ইউনিয়নের আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার বাঁধে সিসি ব্লক বসানো কাজ শেষ পর্যায়ে। বাকি তিন কিলোমিটারের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। এতে ২৭ মিটার বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যে কোনো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হলে মেরামত করা হয়। এ ছাড়াও বাকি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×