ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া সেই মায়ের শরীরে করোনা মেলেনি

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া সেই মায়ের শরীরে করোনা মেলেনি
×

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:০৯ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:০০

করোনভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে টাঙ্গাইলের সখীপুরে জঙ্গলে সন্তানেরা যে মাকে ফেলে গিয়েছিল পরীক্ষায় তার শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলেনি।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহীনুর আলম বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যে ওই নারীর শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাদিঘী গ্রামের এক জঙ্গলে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে ৫০ বছর বয়সী ওই নারীকে ফেলে পলিয়ে যায় তার সন্তানেরা।

খবর পেয়ে ওই নারীকে রাত দেড়টার দিকে সখীপুররের ইউএনওর নেতৃত্বে থানার ওসি ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে নিয়ে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি করা হয়।

এদিকে উদ্ধারের পর ওই নারী জানান, তার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। গাজীপুরের সালনায় একটিপোশাক কারখানায় ওই নারীর এক ছেলে, দুই মেয়ে ও জামাতারা চাকরি করেন। সালনায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। তাদের তিনি রান্না করে খাওয়াতেন।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা ও কাশি শুরু হলে আশপাশের বসতিরা তাদের তাড়িয়ে দেন। সোমবার একটি পিকআপভ্যান ভাড়া করে নালিতাবাড়ী যাওয়ার পথে রাতে সখীপুরে একটি শাল-গজারির বনে তাকে ফেলে সন্তানেরা পালিয়ে যায়।

এদিকে, শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার ওসি মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই নারীর বাড়ি উপজেলার ঢনঢনিয়া গ্রামে। তার স্বামী বাড়িতে কৃষিকাজ কাজ করেন।

তিনি জানান, এই নারী ১১ বছর ধরে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। গত ২৩ মার্চ শেরপুর শহরে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যান। এর আগেও তিনি সাত-আট বার হারিয়েছেন। তার ছেলে সানোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, তার সাবানা ও শাহানা নামের দুইটি মেয়েই বিয়ে হয়েছে। তারা গার্মেন্টেসে চাকরি করেন না। তার ছেলে সানোয়ার গাজীপুরের সালনায় নয়, মাস্টারবাড়ী
এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।


আরও পড়ুন

×