ধরা পড়া ২ মেম্বারের তথ্যে চেয়ারম্যানের বাড়িতে মিলল ১৮৩ বস্তা গরিবের চাল
উদ্ধারকৃত চালের একাংশ -সমকাল
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:৩২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বুধবার রাতভর পৃথক দু’টি অভিযানে কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণের ১৮৩ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে র্যাব। এছাড়াও জেলেদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে একই ইউনিয়নের দুই মেম্বারকে একমাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তারা হলেন- উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য জাকির হোসেন এবং ৮নং ওয়ার্ড সদস্য রোকনুজ্জামান রোকন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সুজিত হাওলাদার বুধবার সন্ধ্যায় এ দণ্ডাদেশ দেন।
এর আগে বিকেলে কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণকালে বরিশাল র্যাব-৮ একটি দল তাদের আটক করে। এসময় মৎস্যজীবী প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৪০ কেজি চালের পরিবর্তে ৩০ কেজি করে বিতরণ করছিলেন তারা। পরে আটককৃতদের স্বীকারোক্তিতে কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর স্টিমার ঘাটের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ আত্মসাৎকৃত সরকারি চাল মজুদ আছে বলে জানাতে পারে র্যাব। পরে চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারীর বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৮৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। তবে র্যাবের অভিযান টের পেয়ে আগেই আত্মগোপন করেন চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী। এ ঘটনায় ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে র্যাব।
অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া র্যাব-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুকুর চাকমা বলেন, ‘প্রথম দফায় ওজনে চাল কম দেয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুই মেম্বারকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তারা জেলেদের জন্য নির্ধারিত জনপ্রতি ৪০ কেজি চালের পরিবর্তে ৩০ কেজি করে দিচ্ছিলেন। ২ মাসের বরাদ্দ থেকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ২০ কেজি চাল প্রত্যেক জেলেকে কম দেয়ার কথা স্বীকার করেন আটককৃত ইউপি সদস্য জাকির হোসেন এবং রোকনুজ্জামান। তারা বলেন, ‘কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী প্রত্যেক কার্ডধারীকে দুই মাসের মোট প্রাপ্য ৮০ কেজি চাল থেকে ২০ কেজি করে কম দিতে বলেছেন এবং চুরির অর্ধেক ভাগের অংশ (জনপ্রতি ১০ কেজি করে) হিসাব করে ৫৯৩ জেলে কার্ডের চাল তিনি বিতরণের আগেই নিজের বাড়ির গোডাউনে রেখে দিয়েছেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার বলেন, ‘নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ওজনে কম চাল দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই মেম্বারকে একমাস করে বিনাশ্রম করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যেহেতু চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি তাই তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি।
