এমপির উদ্যোগে হটলাইন চালু, ফোন করলেই বাড়ি পৌঁছে যাবে খাদ্য
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) এ বি তাজুল ইসলাম -সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:১৬ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ১১:১৮
করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে করা হয়েছে ত্রাণ বিতরণ কার্যকরী কমিটি। এই কমিটির সদস্যের কাছে থাকা ০১৭৯১২২৪৪৬৬ ও ০১৭৭৯৮৩৩৩৩৩ এই দুটি হটলাইন নম্বরে ফোন করলে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে খাদ্য সামগ্রী।
ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) এ বি তাজুল ইসলাম।
তাজুল ইসলাম জানান, সংক্রমণ এড়াতে আসন্ন রমজান মাসে এলাকার সাধারণ মানুষকে যেন বাজারে যেতে না হয় সেজন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ক্রয়ের সুবিধার্থে 'ভ্রাম্যমান শপ' চালু করারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। যেখান থেকে লোকজন ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে পারবেন।
তিনি জানান, চলমান অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে রমজানের শুরুতে ১০ হাজার মানুষকে ইফতার সামগ্রী দেবেন। যাদের এই সুবিধা দেওয়া হবে তাদের তালিকা প্রনয়ণ করা হচ্ছে। এছাড়া ঈদের আগেও সমান সংখ্যক মানুষকে ঈদ উপহার দেওয়া হবে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল আহমেদ জানান, সংসদ সদস্যের নির্দেশে ২০ সদস্য বিশিষ্ট 'ত্রাণ বিতরণ কার্যকরী কমিটি' করা হয়েছে। মো. সায়েদুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে এর আহবায়ক করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যদের কাছে দু’টি হটলাইন নম্বর থাকবে। এই নম্বরে ফোন করলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যাচাই-বাছাই করে বাড়িতে পৌঁছে দেবে খাদ্য সহায়তা।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর স্থানীয় সাংসদ দফায় দফায় এলাকায় আসছেন। নিজের তরফ থেকে সাড়ে ১২ হাজার কর্মহীন-অসহায় মানুষের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রত্যেক গ্রামে খাদ্যসামগ্রী ভর্তি গাড়ি পাঠানো তদারকি করেন। এরপর নিজে আবার ১৩ ইউনিয়নের সবকটি গ্রামে যান। গ্রাম ঘুরে ঘুরে খোঁজখবর নেন মানুষের। এসময় ত্রাণ ঠিকভাবে পৌঁছলো কিনা তা যাচাই করেন। ধান কাটায় সমস্যা আছে কিনা তা জানতেও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাছাড়া স্থানীয় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মতৎপরতার খোঁজখবরও রাখছেন প্রতিনিয়ত।
এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার মানুষের অবস্থা আমাকে ভাবাচ্ছে। আমার অন্তরাত্মা অনুসাশন দিচ্ছে এগুলো করার জন্যে। আমি আমার সাধ্যমতো, যে সামর্থটুকু সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়েছেন, তার সবটুকু উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করছি মানুষ যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে।’
