ধামরাইয়ে জনসমাগম কমছে না বাজারগুলোতে, বাড়ছে করোনা ঝুঁকি
ফাইল ছবি
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২০ | ০৩:২৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
ঢাকার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার খেলার মাঠে বসালেও লোকসমাগম কমছে না। মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি।
জানা গেছে, করোনাভাইরাস ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য সরকারি নির্দেশনা মতে ধামরাই উপজেলার ২০-২২টি বাজার কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন খোলা জায়গায় ও খেলার মাঠে বসানো হয়। এরমধ্যে কয়েকটি বাজারে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা হলেও ধামরাইয়ের শ্রীরামপুর, জয়পুরা, বারবাড়িয়া, সানোড়াসহ অধিকাংশ বাজারে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো লোকের সমাগম ঘটছে।
শুক্রবার সকালে শ্রীরামপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খেলার মাঠে মাছের আড়ৎ, কাঁচাবাজার, দুধবাজার বসেছে। কোন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা হয়নি। ঠেলাঠেলি করে শত শত লোক কেনাকাটা করছে।
রতন মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, আতংকের মধ্যেও কাঁচাবাজার নিতে এসেছি। অনেকের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। এতে কখন যে করোনায় আক্রান্ত হই, আল্লাহপাক জানেন।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য ক্রেতাদের বললেও তারা শোনে না।
শ্রীরামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা সবুজ মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার ধামরাইয়ে প্রথমবারের মতো দুইজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর পৌর এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। ওই এলাকার কয়েকটি বাজার বন্ধ রাখার কারণে শুক্রবার পাশের জয়পুরা ও শ্রীরামপুর বাজারে লোকসমাগম একটু বেশি হয়েছে। আমরা সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও শ্রীরামপুর বাজার কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিনই মাইকিং করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বাজার করার জন্য বলছি। সামাজিক দুরত্ব না মানলে শ্রীরামপুর বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, পুলিশের পাশাপাশি চৌকিদার ও এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দিয়েও লোকসমাগম ঠেকাতে পারছি না। প্রতিদিন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘর থেকে অকারণে বের না হওয়ার জন্য বিভিন্ন বাজারসহ গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হচ্ছে।
ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে ধামরাইয়ের সবচেয়ে বড় বাজার কালামপুরসহ কয়েকটি বাজার এখন ফাঁকা। থানা পুলিশ যখন কোনো বাজারে যায়, তখন লোকজন ফাঁকা হয়ে যায়। আবার পুলিশ চলে গেলেই লোকের ভীড় বেড়ে যায়। এখন করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে সবার প্রয়োজন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা ও অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া।
