ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

এন-৯৫ মাস্ক সংকটে বগুড়ায় শুরু করা গেল না করোনা পরীক্ষা

এন-৯৫ মাস্ক সংকটে বগুড়ায় শুরু করা গেল না করোনা পরীক্ষা
×

বিশেষ ধরনের মাস্কের অভাবে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে শনিবার করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে পরীক্ষা শুরু করা যায়নি - ফাইল ছবি

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৩২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

সবকিছু চূড়ান্ত হলেও শুধুমাত্র বিশেষ ধরনের এন-৯৫ মাস্কের অভাবে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে পরীক্ষা শুরু করা গেল না।

শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানিয়েছেন, 'এন নাইনটি ফাইভ' নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের ওই মাস্ক না থাকায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার কলেজে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কাজ শুরু করা যায়নি।

তবে মাস্ক নিতে শজিমেকের একটি টিম ঢাকায় গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'মাস্ক আনতে শনিবারই শজিমেকের একটি টিমকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধ সংরক্ষণাগারে (সিএমএসডি) পাঠানো হয়েছে। রোববার নাগাদ মাস্কগুলো এসে পৌঁছাবে এবং পরদিন ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে এখানে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কাজ শুরু হবে।'

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস নামে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির অস্তিত্ব গত ৮ মার্চ প্রথম ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুরুতে শুধুমাত্র ঢাকার একটি স্থানেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে তা দেশের অন্য বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজগুলোতেও চালু করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সেখানেই বগুড়ার নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তবে একাধিক জেলার নমুনা পরীক্ষার কারণে রাজশাহী  মেডিকেল কলেজ থেকে রিপোর্ট পেতে কমবেশি ৪৮ ঘণ্টা লেগে যায়। এতে সন্দেহভাজন রোগী এবং তাদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ায় শজিমেকের মাইক্রোবাইলোজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের দাবি উঠতে থাকে। তার পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এপ্রিলের প্রথম দিকে শজিমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের কাজটি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য ওই বিভাগের একটি কক্ষকে প্রস্তুত করা হয়। সেখানে ৪টি ইনক্লোজার, সিলিং এবং পাশাপাশি দুটি টয়লেটসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর গত ৮ এপ্রিল পিসিআর আনা হয় এবং তা স্থাপনের কাজও শুরু হয়। এর পর ঢাকা থেকে আসা দু’জন অ্যাপ্লিকেশন ইঞ্জিনিয়ার পিসিআর যন্ত্রটি পরিচালন পদ্ধতি ল্যাবটেকনিশিয়ানদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। এছাড়া কলেজের মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষক তথা চিকিৎসদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, কলেজের ১১ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং ওই তিন বিভাগের ১৭ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজটি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিয়োজিত ল্যাব টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসকদের জন্য এন-৯৫ নামের বিশেষ ধরনের মাস্ক না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, 'আমরা ধারণা করেছিলাম মাস্কগুলো শুক্রবারের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১০০ পিস এন-৯৫ মাস্ক আনার জন্য আমরা শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধ সংরক্ষণাগারে লোক পাঠিয়েছি। রোববারের মধ্যে তারা পৌঁছে যাবে এবং ইনশাআল্লাহ্ সোমবার থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।'

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, 'শজিমেকের ল্যাবে প্রতিদিন ৯৬টি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। পরীক্ষার ফলাফল পেত অন্তত ৪ ঘণ্টা লাগবে।'

আরও পড়ুন

×