সরকারি নির্দেশনা অমান্য
মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে হচ্ছে স্থাপনা
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সব ধরনের স্থাপনা নিষিদ্ধ হলেও সৈকতের বালিয়াড়িতে তৈরি করা হয়েছে একটি রেস্তোরাঁ -সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৩ | ০৬:৩১
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে গড়ে উঠছে নানা স্থাপনা। ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি এর মধ্যে রয়েছে সরকারি স্থাপনাও।
মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া সোনারপাড়া থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, রেডিয়েন্ট হ্যাচারির সামনে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে সৈকতের বালিয়াড়িতে অন্তত দুই একর জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে কয়েকটি স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি দোকান। স্থানীয়রা জানান, রেডিয়েন্ট হ্যাচারির মালিক শফিকুর রহমান দোকানগুলো নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। তবে ওই জমি নিজের বলে দাবি করেছেন শফিকুর রহমান। সমকালকে তিনি বলেন, ‘এগুলো আমার ব্যক্তিগত জমি। দোকান নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে, মিটিং হলে আশা করি পাস হয়ে যাবে।’
একইভাবে পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক লাগোয়া পূর্ব পাশে ফাঁকা জায়গায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক টয়লেট। প্রায় কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। হামিদুর রহমান নামে স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেছেন, টয়লেট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমিটি তাঁর। অধিগ্রহণ ছাড়াই সেখানে টয়লেট নির্মাণ হচ্ছে। তবে উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি খাস জমি। তাই সেখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’
কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুর বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমিটি বুঝিয়ে দিলে কাজ শুরু হবে। বিতর্কিত জায়গায় বিশ্বব্যাংকের কাজ করার সুযোগ নেই।’ সৈকতের উখিয়া ইনানী বিচ পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে প্রায় দেড় একর সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কিং ফিশার’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট। পাশাপাশি তাদের আরেকটি বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে। এটি নির্মাণ করছে ‘টিকে গ্রুপ’। এর উত্তর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘প্যাবেল স্টোন’ নামে একটি আবাসিক হোটেল। এর পাশেই হয়েছে বন বিভাগের রেস্ট হাউজ। মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে স্থাপনা নির্মাণে অবৈধ দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা অভিযোগ করেন, ‘এসব অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনার ফলে প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সৈকতে এভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই, শিগগিরই অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’
- বিষয় :
- মেরিন ড্রাইভ
- টেকনাফ
