গৃহবধূ মৌসুমীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
ছবি: প্রতীকী
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৩ | ২০:২১ | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৩ | ২০:২১
পটুয়াখালীর দশমিনায় গৃহবধূ মৌসুমী আক্তারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় মৌসুমীর স্বামী উপজেলার ৫ নম্বর বহরমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার মৌসুমীর বড় ভাই বহরমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিপ্লব বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহাগ দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়ার ছোট ভাই মো. খলিলুর রহমানের ছেলে। সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তার।
মামলার বাদী মনিরুজ্জামান বিপ্লব সমকালকে জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর মামলার ২ নম্বর সাক্ষী তাঁর সেজো বোন বুলবুল আক্তারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কে রয়েছেন। বুলবুল আক্তার উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী এলাকার বাসিন্দা।
মনিরুজ্জামান বলেন, সোহাগ চেয়ারম্যানের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা বড় বোন বুলবুল আক্তারকে গত ৫ মে চিরকুট লিখে জানিয়েছে মৌসুমী। আদালতে দায়ের করা মামলায় মৌসুমীর ওই চিরকুটের কপি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। চিরকুটে লেখা আছে– ‘বুলবুল আপা, আমি তোমার ছোট বোন মৌসুমী। সোহাগের সঙ্গে ১৫ মাস আগে আমার বিয়ে হয়। এই ১৫ মাসে এমন কোনো মাস নেই, যে মাসে আমাকে ২-৩ বার না মারছে।’
চিরকুটে আরও বলা হয়, ‘প্রতিনিয়ত সে (সোহাগ) নেশা সেবন করে বাসায় আসে। আমি তার সঙ্গে ভালোমন্দ কোনো কথা বললেই আমাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। আমার সাজানো গোছানো সংসার, আমার তিনটি সন্তান (প্রথম স্বামীর পক্ষের), সব আমার থেকে ছিন্ন করে দিয়েছে। ও আমাকে মেরে ফেলবে। আমি মরে গেলে ওকে তোমরা ছাড়বে না। আমার মৃত্যুর জন্য শুধু সোহাগ চেয়ারম্যান দায়ী থাকবে।’
কথিত চিরকুটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলার ৫ নম্বর বহরমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহাগের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গৃহবধূ মৌসুমীর বলে দাবি করা চিরকুট প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান সোহাগের বড় ভাই মো. কামরুল ইসলাম জানান, ওই চিঠি (চিরকুট) অন্য কেউ লিখে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, মৌসুমীর পরিবার সোহাগের থেকে আর্থিকসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করতে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। মৌসুমী আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার দুপুরে দশমিনা উপজেলা সদরের নলখোলার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট বাসা থেকে মৌসুমীর আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, পুলিশ এই ফ্ল্যাট বাসার বাথরুম থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে দায়ের করা মামলার কোনো কপি এখনও তারা হাতে পাননি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।
