ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

মাছ বিক্রি করতে না পেরে চলনবিলের মৎস্যচাষীরা বিপাকে

মাছ বিক্রি করতে না পেরে চলনবিলের মৎস্যচাষীরা বিপাকে
×

ছবিটি তাড়াশ উপজেলার কোহিত গ্রাম থেকে তোলা সমকাল

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০১:৪৭

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে করোনার কারণে মাছ বিক্রি করতে না পেরে চলনবিল অঞ্চলের শত শত মৎস্যচাষীরা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া রমজানের বাজার ধরতে না পেরে অতিরিক্ত সময় ধরে পুকুর ভরা মাছের খাদ্য ,ওষুধ,আনুসাঙ্গিক খরচ যোগাতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাত চলনবিলের ৯ উপজেলায় অন্তত ২০-২৫ হাজার পুকুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশীয়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে থাকেন শত শত মৎস্যচাষীরা। মূলতঃ রমজান মাসকে সামনে রেখে মাছের চাহিদার প্রেক্ষিতে এ বাজার ধরতে রমজানের প্রথম দিকে পুকুরে ফিশিং’এ নামেন অনেক মৎসচাষী। কিন্ত এ বছর করোনার কারণে এ অঞ্চলের মৎস্যচাষীরা রমজানের মাছের বাজার ধরতে পারেননি। কিন্তু প্রায় দেড়-দুই মাস ধরে পুকুরে মাছ রেখে তা পরিচর্চায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। ফলে মাছের উৎপাদন ও ব্যয় ক্রমশ বেড়েই চলছে।
মহিষলুটির মাছের  আড়তের আড়ৎদার সুজন ইসলাম জানান, বর্তমানে চলনবিলের বৃহৎ মাছের আড়ত সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটি ও উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল আড়তসহ কয়েকটি মাছের আড়ত স্বল্প পরিসরে খোলা থাকলেও বড় বড় মৎস্যচাষীদের মাছ সেখানে আসছেন না। তিনি জানান,  ওই সব মাছের আড়তে ঢাকা, গাজীপুর , নারায়ণগঞ্জ, সাভার , টাঙ্গাইল এলাকা থেকে পাইকারী মাছ ক্রেতারা মাছ কিনে নিয়ে থাকেন। কিন্ত দেশব্যাপী লকডাউন থাকার কারণে ওই আড়তগুলোতে বড় বড় পাইকার না আসায় মৎস্যচাষীরা বিপাকে পড়েছেন।
চলনবিলের কোহিত গ্রামের মৎস্যচাষী লুৎফর রহমান জানান , তার ৪টি পুকুরে প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে, যা প্রতি বছর রমজান মাসে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করা হয়ে থাকে । তিনি আরও জানান, গত বছর রমজানের সময় তার একটি পুকুর থেকে ৫ কেজি ওজনের রুই মাছ ২২০০-২৩০০ টাকায় বিক্রি করেছেন । কিন্ত বর্তমান আড়তগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় এলাকা ভিত্তিকভাবে মাছ বিক্রি করছেন । কিন্তু তাও দাম পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ) হাসান মাহমুদুল হক বলেন, করোনার কারণে মাছের দাম কম ও আড়তগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ কারণে এই উপজেলার প্রান্তিক ,ক্ষুদ্র, ও বড় বড় মৎস্যচাষীরা বাধ্য হয়েই পুকুরে মাছ রেখে ব্যায় অব্যাহত রেখেছেন। তিনি জানান, তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের তালিকা করছেন যাতে ভবিষ্যতে তাদের সহযোগিতা করা যায়।      



আরও পড়ুন

×