জলাবদ্ধতা এড়াতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী
বুধবার সকালে জলাবদ্ধ রেললাইন পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ছবি- সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২০:২২ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২০:৪৩
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত না করতে চট্টগ্রামের ষোলশহর-জানালীহাট অংশের রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করার ঘোষণা দিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে রেলের গ্যাংকারে করে জলাবদ্ধ রেললাইন পরিদর্শন শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ চিন্তা হচ্ছে, এই লাইনটি আরও পাঁচ ফুট উঁচু করা। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনে কাজ হবে। ইতিমধ্যে দরপত্রপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ যখন উঁচু করা হবে তখন ৩ ফুট পানি বাড়লেও রেল চলাচল কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট পর্যন্ত পানি রেললাইনের ওপর উঠে এসেছে। এ অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যেই রেললাইন উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একটানা বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় বুধবারও দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে ছিল রেললাইন। এর ফলে মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস ষোলশহর এলাকায় রেললাইনে পানি জমে আটকা পড়ে। পরে রাত ১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। এতে ট্রেনটির প্রায় এক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া ঢাকা থেকে এবং দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাতায়াত করে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।
রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান জানান, নগরীর ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস চট্টগ্রামে এসে আটকে পড়ে। পরে ট্রেনটি কক্সবাজারে যেতে না পেরে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যায়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ষোলশহর এলাকায় রেললাইন এখনও দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে রয়েছে। এ কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানি সরে গেলে ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়। পরে ট্রেনটি ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ হিসেবে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। একই কারণে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেসের চলাচলও বাতিল করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।