পুশইনের এক বছর পর ৪ নাগরিককে ফেরত নিল ভারত
চার ভারতীয় নাগরিক। ছবি: সমকাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২০:০২ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২০:০৪
দীর্ঘ এক বছর আগে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের শিকার হওয়া শিশুসহ ৪ নাগরিককে ফেরত নিয়েছে ভারত। বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে তাঁদেরকে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি সুব্রত কুমার ও ওমর এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
হস্তান্তরকৃত নাগরিকদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী মো. দানেশের বাবার নাম মুন্নু শেখ। তার বাড়ি বীরভূম জেলার পাইকর থানার অন্তর্গত পাইকর গ্রামে। বাকি তিনজন নাগরিক একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন বীরভূম জেলার মুরারই থানার ধিতরা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল দেওয়ানের স্ত্রী সুইটি বিবি (৩৪) এবং এই দম্পতির দুই ছেলে। তাদের বড় ছেলের নাম কুরবান শেখ (১৭) ও ছোট ছেলের নাম ইমাম দেওয়ান (৬)।।
এদিকে দীর্ঘ এক বছর পর নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বাংলাদেশে পুশইনের শিকার ওই চার ভারতীয় নাগরিক।
পুশইনের শিকার সুইটি বেগম জানান, তাঁরা দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে সেখানকার পুলিশের হাতে আটক হন। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে আটকের পর বাংলাদেশে গভীর রাতে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পুশইন করে দেয়। এ সময় তাঁরা দীর্ঘ এক বছর বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করেন।
ভারতীয় ওই চার নাগরিক বাংলাদেশে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন। তিনি জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে তাঁরা তাঁর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এত দীর্ঘ সময় তাঁদের রেখে পরিচালনা করা সত্যিই ব্যয়বহুল। ভারত সরকার তার নিজ দেশের নাগরিকদের এভাবে রাষ্ট্রহীন করার চেষ্টা করা গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন আদালতে আইনি লড়াইয়ের পর ভারত সরকার অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বেগম ও তাঁর ছোট সন্তানকে ফেরত নিলেও তাদের সাথে পুশইনের শিকার এই ৪ জনকে ফেরত নিতে টালবাহানা করে। শেষে নানা চেষ্টার পর বুধবার তাঁদের ভারতে পাঠাতে পেরে আমরা খুশি। আর তাঁরাও নিজ দেশে ফিরতে পেরে আনন্দে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুন কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এই ৪ জনসহ মোট ৬ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। পরে আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সোনালী বেগম ও তাঁর ছেলেকে ফেরত নেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার ফেরত যাওয়া ভারতীয় নাগরিকেরা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা।
পুশইনের পর গত ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে তাঁদের আটক করে বিজিবিকে সোপর্দ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁরা তিন মাস কারাবরণ করেন।