প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা করেছেন বাবা: পুলিশ
নিহত রাহিমা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২০ | ০৬:১৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দেড় বছরের শিশু রাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ফয়েজ আহাম্মদ মনুকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গেপ্তারের পর সোমবার ফয়েজ আহাম্মদ মনু তার মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে মঙ্গলবার বিকেলে জানিয়েছেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. জসীম উদ্দীন।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার ফয়েজ সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। ফয়েজের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল একই এলাকার মতিনের। অন্যান্য ঘটনায় প্রতিপক্ষ মতিনকে কাবু করতে না পেরে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য ফয়েজ নিজের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৫ মে বেলা ১২টার দিকে রাহিমাকে কোলে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন ফয়েজ। পরে মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন ফয়েজসহ পরিবারের সবাই। ওই দিন রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হারানোর জিডি করেন ফয়েজ। এর তিনদিন পর ৮ মে রাতে লাশ ঝোপ থেকে নিয়ে নিজের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন ফয়েজ নিজেই। পরদিন সকালে ফয়েজ থানায় ফোন করে লাশ পাওয়া গেছে বলে পুলিশকে জানান।
ওসি জসীম আরো জানান, এরপর গত শনিবার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে ফয়েজের দেড় বছরের মেয়ে রাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বাবা ফয়েজকে। পরে বাবা তার মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুর মা রাশেদা আক্তার সুমি বাদি হয়ে স্বামী ফয়েজ আহাম্মদ মনুকে (৪৫) প্রধান আসামি করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বাদী নিহত শিশুর মা রাশেদা আক্তার সুমি জানান, তিনি তার সন্তান হত্যার বিচার চান। এছাড়াও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ সন্তান হত্যার ঘটনা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।