ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারিং বিতর্ক, যে ব্যাখ্যা দিলো ফিফা

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারিং বিতর্ক, যে ব্যাখ্যা দিলো ফিফা
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২৪ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৩৬

শেষ ষোলোর লড়াই শেষ হলেও আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচ নিয়ে আলোচনা এখনও থামছে না। মাঠে রেফারির দেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। এমনকি মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো সরাসরি অভিযোগ করেছেন, রেফারি আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। ম্যাচটিকে পাতানো বলেও দাবি করেছেন তারা। তবে এসব দাবি পাত্তা দিচ্ছেন না ফিফার প্রধান রেফারিং অফিসার পিয়েরলুইজি কলিনা।

সম্প্রতি ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের সবগুলো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই রেফারি। প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচে রেফারি কোনো ভুল করেননি। তার ভাষ্যমতে, ভিএআর প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক।

একইসঙ্গে বিশ্বকাপে রেফারিদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, ম্যাচসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা স্বাভাবিক হলেও রেফারিদের সততা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

রেফারিং নিয়ে মিসরের আপত্তি মূলত দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। প্রথমটি ভিএআর দেখে আগের একটি ফাউলের কারণে মিসরের গোল বাতিল করা হয়। অন্যটি আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে আগে ফাউলের অভিযোগ থাকলেও সেটি ভিএআরে পর্যালোচনা না করা। দুটি ঘটনায় নেওয়া সিদ্ধান্তেরই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফিফার রেফারি প্রধান।

মিসরের গোল বাতিল

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল মিসরের বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে। এ বিষয়ে কোলিনা জানান, প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিএআর পুরো আক্রমণ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে। গোল হওয়ার আগে বিল্ডআপে যদি কোনো ফাউল পাওয়া যায় এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় তাহলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে অনফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ফাউলের ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে কত দূরত্বে ঘটেছে বা ঘটনার কতক্ষণ পর গোল হয়েছে, সেটির কোনো নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের সীমা নেই।’

কোলিনার মতে, মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া বল দখলের আগে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে আঘাত করেছিলেন, যা ফুটবলের আইন অনুযায়ী স্পষ্ট ফাউল।

অভিজ্ঞ এই রেফারি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, ফাউল মানে ফাউল। মাঠের রেফারি ঘটনাটি না দেখলেও ভিএআর সেটি শনাক্ত করে হস্তক্ষেপ করতে পারে।’

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের বল দখল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে কোলিনা জানান, ওই ঘটনায় ডিফেন্ডার আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং পরে হওয়া শারীরিক সংস্পর্শ ছিল স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ। তাই সেটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘যদি গোল হওয়ার আগের মুহূর্তে কোনো ফাউল শনাক্ত না হয়, তবে ভিএআর রেফারিকে সেই অনুযায়ী জানাবে। প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখাটা অবশ্যই ফাউল। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করে এবং তারপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় কন্টাক্ট (স্পর্শ) হয়, তবে তা ফাউল বলে গণ্য হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ থাকতেই পারে। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে যেভাবে নিয়মের প্রয়োগ করা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

এ সময় সবাইকে রেফারিং নিয়ে কিছুটা সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান পাঁচবারের আন্তর্জাতিক বর্ষসেরা এই রেফারি। কোলিনা বলেন, ‘ম্যাচসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ফুটবলেরই অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফিফার রেফারিং কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের প্রভাবে পরিচালিত হয় না। এমনকি ফিফা সভাপতিও রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না।’

আরও পড়ুন

×