ওএমএস’র তালিকায় আ`লীগ নেতার পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১২ মে ২০২০ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ১২ মে ২০২০ | ০৭:৫০
হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল (ওএমএস) ক্রয়ের উপকারভোগীদের তালিকায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদকের স্ত্রীসহ পাঁচ সদস্যের নাম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর বলছেন, তিনি কোনো ভুল করেন নি। আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনি ও নাম দেওয়া পরিবারের অন্য সদস্যরাও গরীব।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির অর্ন্তভূক্ত নয় তাদের জন্য বিশেষ ওএমএস সুবিধা চালু করা হয়েছে। এই সুবিধায় একজন ওএমএস কার্ডধারী প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। সেজন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা এলাকায় ৯,৬০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ওএমএস কার্ড। কার্ডের জন্য প্রথম দফায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এই তালিকা করা হয়েছে। প্রথম দফার তালিকা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি করে চাল ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. শাহ আলমের পরিবার এবং স্বজনদের নাম উঠেছে ওএমএস কার্ডের তালিকায়। তালিকার ১২ নম্বরে মেয়ে আফরোজা এবং ১৬ নম্বরে রয়েছে স্ত্রী মোছাম্মৎ মমতাজ আলমের নাম। এছাড়াও শাহ আলমের তিন ভাই-বোন মো. সেলিম, মো. আলমগীর ও শামসুন্নাহারের নাম রয়েছে ৮, ৯ ও ২৭ নম্বর ক্রমিকে। পাঁচতলা বাড়ির মালিক শাহ আলম গরীবের ওএমএস কার্ডে স্ত্রী-সন্তানের নাম তোলায় সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র। এ ঘটনায় সরকার যে সুবিধা দিচ্ছে সেটি থেকে গরীব-অসহায়রা বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যাদেরকে তালিকা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা যদি প্রকৃতদের এড়িয়ে তাদের পছন্দের লোকদের নাম দেন সেটি তো ঠিক না। এতে করে যে উদ্দেশ্যে সরকার যাদের জন্য এই সুবিধা দিচ্ছে সেটি তারা পাবে না।
নিজে সামর্থ্যবান হয়েও গরীবের ওএমএস কার্ডের তালিকায় পরিবার-স্বজনদের নাম উঠানোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে মহল্লার হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত যারা আছেন তাদের তালিকা করতে। এই তালিকা কাউন্সিলরের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে চলতে গেলে গরীব থাকতে হয়। আমিও গরীব। পৈতৃক টাকায় বিল্ডিং করেছি। এখন আমি ২২ লাখ টাকা ঋণে আছি। আমার মেয়ের জামাইও বেকার। এমন চিন্তা করেই নাম দিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে দেখুক।’
তবে ওএমএস কার্ডে বিত্তবানদের নাম তোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকবুল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি সৎ পথে রয়েছি। জানামতে কোনো ভুল করিনি। যাচাই-বাছাই করেই নাম দেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ওএমএস কার্ডের তালিকায় সামর্থ্যবানদের নাম ওঠার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তালিকা যাচাই-বাছাই করে সামর্থ্যবান যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের বাদ দেয়ার জন্য আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি। ইতোমধ্যে ওএমএস কমিটির সভায় ৯১ জন সামর্থ্যবান ভোক্তাকে চিহ্নিত করে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতার পরিবার ও স্বজনদের নাম উঠার বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’