ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পদ্মা সেতুর আদলে প্রতিমা মঞ্চ

পদ্মা সেতুর আদলে প্রতিমা মঞ্চ
×

পদ্মা সেতুর আদলে প্রতিমা মঞ্চ- সমকাল

খুলনা ব্যুরো ও ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০৮:৫০ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৩০

পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা মঞ্চ। তার ওপর স্থাপন করা হয়েছে দুর্গা, অসুর, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীসহ ১১৫টি প্রতিমা। এসব প্রতিমার পাশাপাশি তাদের বাহন সিংহ, মহিষ, ময়ূর, ইঁদুর, পেঁচা, রাজহাঁসের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। মন্দির জুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক কাহিনী।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি ও মঠ মন্দিরে। এই প্রতিমা মঞ্চ দেখতে এখন ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী অসংখ্য মানুষ। ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদীর তীরে ডুমুরিয়া কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি ও মঠ মন্দির। মঠের প্রবেশপথে তৈরি করা হয়েছে সুদৃশ্য গেট। মন্দিরের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি প্রতিমা মঞ্চটিকে রঙ করে আরও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। মঞ্চের পূর্ব-দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর দিকে স্থাপন করা হয়েছে প্রতিমাগুলো।

মঠের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা সমকালকে জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে পদ্মা সেতু হচ্ছে স্বপ্নের সেতু। সে কারণে মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অনীল কুমার ভাস্কর সমকালকে জানান, পদ্মা সেতুর আদলে নির্মিত মঞ্চের ওপর ১১৫টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি ও তার ১২ জন সহযোগী প্রায় আড়াই মাস ধরে এসব প্রতিমা ও মঞ্চ তৈরি করেছেন। তিনি প্রতি বছরই প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন।

মন্দির কমিটির সদস্য পরিতোষ কুমার বৈরাগী বলেন, এখানে দুর্গোৎসবের প্রচলিত রীতির প্রতিমাগুলোসহ ধর্মীয় বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীর প্রতিমাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখনকার ছেলে-মেয়েদের কাছে তাদের পরিচিত করানোই এর উদ্দেশ্য।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ বছর চার হাজার ৮৬৯টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলায় পূজা হচ্ছে ৮১৯টি মণ্ডপে এবং নগরীর ১২২টি মণ্ডপে। এসব মণ্ডপে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মোতায়েন করা হয়েছে ৬ হাজার ৬১৭ জন পুলিশ এবং ২৪ হাজার ৫৭১ জন আনসার।

খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানান, প্রতিটি পূজা মণ্ডপ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিদর্শন করবেন। এ সময় ডিআইজির দপ্তরসহ বিভাগের ১০ জেলার কন্ট্রোলরুম সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, পূজার সময় পটকাবাজি না করা, নামাজের সময় মাইক না বাজানো, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিয়ন্ত্রণ, জুয়া বা মাদকের আসর না বসানো, ইভটিজিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×