ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

জালিয়াতি করে ২৩ বছর শিক্ষকতা, বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

জালিয়াতি করে ২৩ বছর শিক্ষকতা, বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
×

নুন্দহ ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২০ | ০৫:৫১ | আপডেট: ০৯ জুন ২০২০ | ০৬:২৫

জালিয়াতির মাধ্যমে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করে আসা বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নুন্দহ ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা (এমপিও) বন্ধ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৭ জুন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে ওই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থেকে অব্যাহতি দিতে গভর্ণিং বডির সভাপতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এতদিন বেতন-ভাতা হিসেবে উত্তোলন করা সমুদয় অর্থ আগামী এক মাসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান এবং তথ্য গোপনের মত ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতেও মাদাসা কর্র্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি করে নিয়োগ লাভ এবং বেতন-ভাতার নামে সরকারি কোষাগার থেকে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করা হয়। সেই অভিযোগ অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে ‘জালিয়াতি করেও ২২ বছর ধরে শিক্ষক তিনি!’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ১৫ মে দৈনিক সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দুদকে আবুল কাশেম নামে নুন্দহ মাদ্রাসার একজন দাতা সদস্য অভিযোগ করে বলেছেন, একই শিক্ষা বর্ষে এক সঙ্গে দু’টি ডিগ্রী অর্জন বৈধ না হলেও মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষা বর্ষে নুন্দহ মাদ্রাসা থেকে ফাজিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে বিএসএস অনার্স পাশ করেন। এরপর ১৯৯৭ সালের ১৫ মার্চ নুন্দহ মাদ্রাসায় রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের সময় মোস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাশের তথ্য গোপন করেন। 

এর প্রায় পনের বছর পর ২০১২ সালে ওই মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে মোস্তাফিজার রহমান আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স পাশের তথ্য গোপন করেন। তখন উপাধ্যক্ষ হিসেবে চাওয়া যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণের জন্য মোস্তাফিজার রহমান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফাজিল পাশের সনদ প্রদর্শন করেন। আর অভিজ্ঞতা হিসেবে ওই মাদ্রাসায় ১৫ বছর ধরে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকার কথাও উল্লেখ করেন। 

অভিযোগ পাওয়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মোস্তাফিজুর রহমানের বিএসএস সনদ বাতিল করেন। আর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগ ২০১৫ সালে নুন্দহ মাদ্রাসায় প্রভাষক এবং পরবর্তীতে উপাধ্যক্ষ- এদু’টি পদের কোনটিতেই মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ বৈধ নয় বলে মত দেন। কিন্তু তার পরেও মোস্তাফিজুর রহমান উপাধ্যক্ষ হিসেবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের পাশাপাশি অধ্যক্ষ পদ শূণ্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. শাহীনুর ইসলাম অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে বলেছেন, তার নিয়োগ বৈধ ছিল না। ইতিপূর্বে তার বেতন-ভাতার সরকারি অংশ (এমপিও) স্থগিত করা হয়েছিল। এবার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হলো।

তিনি বলেন, ‘এতদিন বেতন-ভাতা হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের উত্তোলন করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা এবং তথ্য গোপনের মত ফৌজাদারি অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করতে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে বলা হয়েছে।’

নন্দীগ্রাম উপজেলার নুন্দহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) মাসুম আলী বেগ জানিয়েছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চিঠিতে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করা হবে।’

আরও পড়ুন

×