ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

নাসিরনগরের ভলাকুটে ভাতাবঞ্চিত দুস্থরা, অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

নাসিরনগরের ভলাকুটে ভাতাবঞ্চিত দুস্থরা, অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
×

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২০ | ০৪:৫৩ | আপডেট: ১০ জুন ২০২০ | ০৯:২৭

বিধবা এশা বানুর বয়স সত্তর ছুঁই ছুঁই। ছেলেদের অভাবের সংসারে ঠাঁই না হওয়ায় তিনি মেয়ের বাড়িতে থাকেন। কিন্তু মেয়ের সংসারেও অভাব অনটন লেগেই থাকে। এ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তিতে বাঁচার আশায় বয়স্ক ভাতার জন্য ইউপি সদস্য সামসু মিয়া তালুকদারের পেছনে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু  মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। এখন ভিক্ষাবৃত্তি করেই কাটছে তার দিন।

শুধু এশা বানু নন, এই ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে বঞ্চিত আরও অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সামসু মিয়া তালুকদার স্থানীয় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা থেকে বঞ্চিত করছেন। সামসু ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।

নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ২১৬ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। এদের মধ্যে দলিত ৩৯০ জন আর চারজন হিজড়া ভাতা পান। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নতুন করে এক হাজার ২১০ জন বয়স্ক ভাতাভোগী, ৯৫৪ জন বিধবাভাতা এবং এক হাজার ৮৮৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী যোগ হয়েছেন। সে হিসেবে ভাতার তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছেন ৪ হাজার ৫২জন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভলাকুট ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এমন অন্তত ২৪-২৫ জন নারী-পুরুষ রয়েছেন যারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে বঞ্চিত। 
ভলাকুট ইউনিয়নের চকিদারপাড়ার আতর আলীর ৩ শিশু সন্তানই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি জানান, প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য ভাতার কার্ড চেয়ে ইউপি সদস্য সামসু মিয়ার পেছনে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি। একই গ্রামের বৃদ্ধ নোওয়াজ আলী ও এসাদ আলীও বয়স্ক ভাতার কার্ড পাননি।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সামসু মিয়া তালুকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে কিছু লোক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নাসিরনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, এ পর্যন্ত ভাতা কার্ড পেতে কোনো লোক তার কাছে অভিযোগ করেননি। ভলাকুটের বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুবেল মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা আশরাফী বলেন, আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×