ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

বাঞ্ছারামপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় ইউপি সদস্যের স্বজনরা

বাঞ্ছারামপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় ইউপি সদস্যের স্বজনরা
×

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২০ | ০৭:৫১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উপহার নগদ আড়াই হাজার টাকার  তালিকায় স্বজনদের ও স্বচ্ছলদের নাম অন্তর্ভুক্তি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় একই গ্রামের ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিব কাউছার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ  দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,  আগামী ৫ কর্ম দিবসে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার আওতায় নগদ আড়াই হাজার টাকা করে অসচ্ছল কর্মহীন ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এরই অংশ হিসেবে উপজেলায়  ৯ হাজার ২১০ জন বরাদ্দ পান, এরমধ্যে তেজখালী ইউনিয়নে ৬৩০ জন এই বরাদ্দ পান  আর ৯ নং ওয়ার্ডে বরাদ্দ পান ৪৮ জন। এই ওয়ার্ডের সদস্য বাদল সরকারের করা তালিকায় আত্মীয়-স্বজন ও সচ্ছল ২০ জন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিব কাউছার হোসেন গত ৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত করার জন্য একটি আবেদন দিয়েছেন।

উপকারভোগী ইউপি সদস্যের ভাইয়ের স্ত্রী অঞ্জনা বেগম বলেন, ইউপি সদস্য আমার ভাসুর। আমাদের অবস্থা ভালো নয়; এ কারণে তিনি আমাকে ও আমার স্বামীকে এ তালিকায় নাম দিয়েছেন, উনার  আপন ভাতিজা রিফাত সরকারও রয়েছেন এই তালিকায়। আমি কেন আমার মতো অনেকেই রয়েছেন যাদের স্বামী স্ত্রী এই তালিকায় রয়েছেন।

ইউপি সদস্য বাদল সরকার বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব আমার কাছে ৫০ জনের নামের তালিকা ও আইডি কার্ড চেয়েছিলেন; তখন তড়িঘড়ি করে এ সকল আইডি কার্ড আমি উনার কাছে দিয়েছি। তালিকা প্রণয়ন করেছেন চেয়ারম্যান সাহেব। তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা টাকা পাবেন এটা আমি জানতাম না।

তিনি বলেন, তালিকায় আমার আত্মীয়-স্বজন ও সচ্ছল কিছু ব্যক্তি রয়েছেন এটা সত্য। তড়িঘড়ি করে তালিকা করার কারণে এমন হয়েছে, আমি কারো কাছ থেকে কোন সুবিধা নিয়ে এই কাজটি করিনি।

তেজখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন , ‘আমি কোনও তালিকা প্রণয়ন করিনি ।এ বিষয়ে তদন্ত টিমের কাছে মেম্বার জবাব দেবে।’

তদন্ত টিমের আহবায়ক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার ইউপি সদস্যকে আমার কার্যালয় আসার জন্য বলেছি।

অভিযোগকারী সিনিয়র সহকারী সচিব  কাউছার হোসেন বলেন, ইউপি সদস্য বাদল মিয়া প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা  তালিকায় তার আত্মীয়-স্বজন ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নাম দিয়েছেন। এমনকি বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে হলে তাকে টাকা দিতে হয়। এ কারণে একটি অভিযোগ দিয়েছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার বলেন, তেজখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড হাসান নগর গ্রামের একজন আমার কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন

×