ভাইয়ের ‘বন্ধুরাই’ ঘাতক!
আহনাফ আল মাঈন নাশিত
ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২২:৩২ | আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২২:৪১
নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর ফেনীতে আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী পৌর এলাকার দেওয়ানগঞ্জের পরিত্যক্ত একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার লাশ। ৮ ডিসেম্বর রাতে প্রাইভেট পড়া শেষে বাসায় ফেরেনি সে। নাশিত হত্যায় জড়িত সন্দেহে তার বড় ভাইয়ের তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আহনাফ আল মাঈন নাশিত জেলার ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছেলে। তিনি ফেনী রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে কর্মরত। দুই ছেলে নিশাত (১৯), নাশিত (১০) ও স্ত্রীকে নিয়ে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কের ভাড়া বাসায় থাকেন সোহাগ। নিশাত কলেজে পড়ছে। নাশিত ওই এলাকার গ্রামার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণরা হলো– আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মো. মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিফাত (২০)। তারা সবাই নাশিতের বড় ভাই নিশাতের বন্ধু। এ কারণে তাদের বাসায় আসা-যাওয়া ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।
পুলিশ ও স্বজন সূত্র জানায়, প্রতি রাতেই প্রাইভেট পড়ে আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় ফেরে নাশিত। কিন্তু গত ৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে ফেরেনি। এ সময় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। সন্ধান না পেয়ে ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে থানার এসআই আব্দুস ছাত্তার নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে জন্য বাদীর সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যান। ওই দিন রাত ৯টা ১৭ মিনিটে সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নাশিতের মুক্তিপণ হিসেবে ১২ লাখ টাকা দাবি করে মেসেজ আসে। পরে তিনি এ বিষয়ে থানায় এজাহার দেন। ১২ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।
তদন্তের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে তিন তরুণকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তুষার ও ওয়াসিম নাশিতকে কৌশলে শহরের আতিকুল আলম সড়ক থেকে সালাউদ্দিন মোড়ে নিয়ে যায়। ওয়াসিমের কথায় সেখানে আসে রিফাত। তারা নাশিতকে নিয়ে পাশের রেললাইন ধরে অজ্ঞাত স্থানে রাখে। তুষারের কথায় ৯ ডিসেম্বর রাতে ওয়াসিম জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নাশিতকে পান করায়। এতে সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম ভাঙার পর নাশিত বাড়ি যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে তিনজন মিলে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
যদিও ওই রাতেই শিশুটির ছবি ও ভিডিও তার বাবাকে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল ওই তরুণরা। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা নাশিতের ব্যাগে পাথরভর্তি করে তার কাঁধে চাপিয়ে দেয়। পরে দেওয়ানগঞ্জের ঝাউবনসংলগ্ন পরিত্যক্ত কচুরিপানাভর্তি ডোবায় লাশ ফেলে দেয়। পরদিন লাশ ঠিক জায়গায় আছে কিনা– তাও দেখতে যায় তারা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে অন্য জায়গায় লাশ ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে তা ব্যর্থ হয়। এর মধ্যেও তারা মুক্তিপণ হিসেবে টাকা দাবি করতে থাকে।
ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, আসামিদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- খুনির মুক্তি
