ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

হাম-উপসর্গে মৃত্যুতে দ্বিতীয় সিলেট, নেপথ্যে দুই কারণ

হাম-উপসর্গে মৃত্যুতে দ্বিতীয় সিলেট, নেপথ্যে দুই কারণ
×

প্রতীকী ছবি

 সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৫। মৃতের সংখ্যা বিবেচনায় সারাদেশ সিলেটের অবস্থান দ্বিতীয়। সর্বোচ্চ ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।

সিলেটে হামে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে সারাদেশে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হলো সিলেটে।
দেশের অন্যান্য স্থানে যখন হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যুর হার বেশি ছিল, তখন সিলেটে কম ছিল। বর্তমানে অন্য জায়গায় এই হার  কমছে। কিন্তু সিলেটে বাড়ছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ আছে। এই প্রেক্ষাপটে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্টরা। 

গতকাল প্রথমে সিভিল সার্জন অফিসে ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে বৈঠক করা হয়।
ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত সমকালকে জানিয়েছেন, সিলেট জেলায় টিকার লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ৮৯ হাজার। এর মধ্যে তিন লাখ ৮২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সাত হাজার শিশু টিকা পায়নি। টিকার বাইরে থাকা শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। 
ডা. জন্মেজয় দত্ত আরও বলেন, সিলেটে কেন হাম ও হামের উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু কমছে না, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। যারা মারা যাচ্ছে, তারা কি শুধু হামে নাকি অন্য কোনো কারণেও মারা যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষার পর ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে হামের লক্ষণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন, টিকা না নেওয়া বা না পাওয়া, অপুষ্টিহীনতা ও একজনের কাছ থেকে অপরজন আক্রান্ত হওয়ার কারণে সিলেট অঞ্চলে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সিলেটের বিশেষায়িত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে প্রতিদিনই ১০০-এর কাছাকাছি রোগী ভর্তি থাকে। তাদের মধ্যে ৭০-৮০ ভাগ শিশু টিকা পায়নি বা নেয়নি– এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রোগীর স্বজনদের বরাত দিয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের স্বজনদের অনেকে জানিয়েছেন, ওই শিশুদের টিকা দেওয়া হয়নি। 
শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া পাঁচ বছর বয়সী রাহী আক্তার মীমের বাবা ছাতকের বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, তাঁর মেয়েকে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করান। তিন দিন পর সুস্থ হয়। মেয়েটিকে টিকা দেওয়া হয়নি। কারণ, তার এলাকায় কোন দিন টিকা দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানতেন না।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক আখলাক আহমদ মনে করেন, টিকা না নেওয়া এবং অপুষ্টিজনিত কারণে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু বাড়ছে। হাম প্রতিরোধে অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের মায়ের বুকের দুধ এবং পারিবারিক খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×