ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

একা ফিরলেন মেসি, মার্তিনেজদের বরণ

একা ফিরলেন মেসি, মার্তিনেজদের বরণ
×

লিওনেল মেসি

 সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৯ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ এখন ভাঙা হাট। খেলা শেষ করে যে যার ঘরে ফিরে গেছে। রোববারের ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন স্পেন মাদ্রিদে পৌঁছায় সোমবার। লামিনে ইয়ামালদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয় দেশে। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরেছে বিশেষ বিমানে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজরাও পেয়েছেন জমকালো সংবর্ধনা। এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লালগালিচা পাতা হয়েছিল খেলোয়াড়দের বরণ করে নিতে। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ শেষে নেওয়া হয় দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে। রাজপথের দুপাশে দাঁড়িয়ে স্লোগান আর করতালিতে লাউতারো মার্তিনেজদের স্বাগত জানায় লাখ লাখ মানুষ। জাতীয় দলের দেশে ফেরা ও সমর্থকদের উদযাপনের সুযোগ করে দিতে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। 
লিওনেল মেসির বীরের সম্মান পাওয়ারই কথা। ফুটবলপাগল আর্জেন্টাইনরা ভালো করেই জানেন, ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পরের বিশ্বকাপে (২০২৬) রানার্সআপ হওয়া কম পাওয়া নয়। দিয়েগো ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসির হাতে লেখা হলো টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার বীরত্বগাথা। যদিও স্পেনের কাছে ফাইনাল ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরে যাওয়া আর্জেন্টাইনদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ। খেলা শেষে হতাশায় বিমর্ষ ছিলেন মেসি। বিবাদ এড়িয়ে মাঠের এক কোণে ঠায় বসেছিলেন কিংবদন্তি। লামিনে ইয়ামাল কাছে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে টেনে নিয়েছিলেন বুকে। সৌজন্যটুকু শেষ করে আবার বসে পড়েন মাটিতে। কতটা হতাশ হলে একজন মানুষ এভাবে বসে থাকতে পারেন! জাতিকে চতুর্থ বিশ্বকাপ উপহার দিতে না পারার কষ্ট লুকাতে ১০ জন খেলোয়াড় দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। তাদেরই একজন হলেন মেসি। দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই দেওয়া হয় সংবর্ধনা। মেসির শূন্যতায় অপূর্ণই থেকে গেছে অনুষ্ঠান।

মেসি দেশে ফিরেছেন এক দিন দেরিতে। তিনি গেছেন জন্মস্থান রোজারিওতে অসুস্থ বাবার কাছে। আর্জেন্টাইন স্পোর্টস পোর্টাল টিওয়াইসি জানায়, কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন মেসি। নিজের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবেন। মেসির জীবনে তাঁর বাবাই সব। যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের খেলা দেখতে আসতে পারেননি অসুস্থতার কারণে। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর বাবার জন্য কেঁদেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ ভেন্যুতে এসেছিল ১ জুন। ১ মাস ২০ দিন পর দেশে ফেরার ফুরসত মিলেছে ফুটবলারদের। বাবাকে না দেখার কষ্টে কত দিন যে কেঁদেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা, তা জানেন তিনি আর তাঁর ঈশ্বর। লিও চেয়েছিলেন, সোনালি ট্রফি জিতে বাবাকে উপহার দেবেন। বুয়েন্স আয়ার্স থেকে রোজারিওর রাস্তায় কোটি মানুষকে বিজয়ের আনন্দে ভাসাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধাতা যে চিত্রনাট্য লিখে রেখেছেন অন্যভাবে! শিরোপা জিততে না পারার হতাশা থেকেই হয়তো দলের সঙ্গে দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত লিওর। বিশ্বকাপ শেষে এক্সে আবেগঘন পোস্ট দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। রানার্সআপ পদকের ছবি জুড়ে দেন সঙ্গে। মেসির পোস্টে লেখা ছিল, ‘ব্যথাটা অনেক তীব্র। এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে। তবে আমি সব ভালো জিনিসও সঙ্গে নিচ্ছি। যে ম্যাচগুলোতে আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা স্মৃতিতে চিরকাল থেকে যাবে। পুরো দেশের সমর্থন আর প্রচেষ্টা আরও একবার বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে আমাদের।’ তাঁর পোস্টের পরের লাইনগুলো বেশি আবেগঘন, ‘আজ আমরা যা করেছি, তার কদর করা কঠিন; কিন্তু এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে।’ মেসি যেন আর্জেন্টাইন ভক্তদের মনে করিয়ে দিতে চাইলেন চার বছর আগের উদযাপনের কথা। 

মেসির মতো দুঃখের দহনে কাতর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তিনিও সামাজিক মাধ্যমে কষ্টের কথা লিখেছেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমরা আবার জিতব। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম এটাকে (সোনালি ট্রফি) আর্জেন্টিনায় নিয়ে এসে আরও একবার ইতিহাস গড়ব। সত্যি বলতে, এই কষ্টটা বোঝানো কঠিন।’ পরের লাইনেই দুঃখ প্রকাশ করেন সমর্থকদের কাছে, ‘অনেক কিছু নিয়ে ভাবার আছে এবং দেখতে হবে কীভাবে সামনে এগোনো যায় আর সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে কিনা। আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি আমার দেশ এবং সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য আমার সেরাটা দিয়েছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, আমি কী করতে চাই, সে সম্পর্কে আমার একটা ধারণা আছে। আমি আমার চুক্তি পূরণ করব, তারপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমি ভাবার প্রয়োজন বোধ করছি। কারণ জানি না, আমি এত বড় (বিশ্বকাপ জয়) কিছু করতে পারব কিনা। হয়তো আমাদের কথা বলতে হবে।’ সিলভার মেডেলের একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনিও। 

মেসি, এমিলিয়ানোদের চার বছর আগের অর্জনকে ভুলে যায়নি আর্জেন্টিনার মানুষ। সে প্রমাণ মিলেছে জাতীয় দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। তীব্র শীত আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল, এই ভালোবাসা অকৃত্রিম।

আরও পড়ুন

×