চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাফিয়াদের উৎপাত বন্ধে যৌথ বাহিনী নামানো দরকার: নুরুল হক
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫ | ১৭:৫৩
সম্প্রতি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাফিয়াদের যে উৎপাত দেখা যাচ্ছে, তা বন্ধে যৌথ বাহিনী নামানো দরকার বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখছি, কোনো রাজনৈতিক দল চাঁদাবাজি, খুন, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি সমর্থন করছে না বলে সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু আমরা এটাও দেখি, পুলিশ-প্রশাসন যখন কোনো চাঁদাবাজকে ধরে নিয়ে যায় তখন দলীয় নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করে তাদের ছাড়িয়ে আনে।’
রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গক্রমে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আগামী নির্বাচন পর্যন্ত নিয়মিত যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করতে পারে। বিশেষ করে শিল্প এলাকাকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের আধিপত্য বাড়ছে। যৌথ বাহিনী সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করলে, আমরা ধারণা এ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।’
জাতীয় নির্বাচনের আগে পরিবেশ তৈরির জন্য স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে এখন জনপ্রতিনিধি নেই। সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান নেই। তাদের যে কাজ, সেটা কে করবে? ইউএনও করছে! কিন্তু ইউএনওকে নিয়েও দলগুলো টানাটানি করে। আজ নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই বলেই এসব হচ্ছে। যদি একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতো, ইউএনও তার সহযোগিতা নিয়ে কাজগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারতো। সে কারণে আমরা বলছিলাম- জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন দেওয়ার জন্য। নির্বাচনের একটি পরিবেশ তৈরির জন্যও স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম মিলেমিশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করি। তারপরও ৫ আগস্টের পরে দেশে নাকি সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে, জমি দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর, ধর্ষণ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আশপাশে এমনটি হয়নি। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো ঘটেছে। আমি মনে করি, এ গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা অনেক সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছে, অনেক সহনশীল ছিল। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে ৫ লাখ লোকের লাশ পড়বে। ৫০০ লোকেরও লাশ পড়েনি। মানুষ তো সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।’
