বারবার প্রশ্ন ফাঁস, তদন্ত হলেও আলোর মুখ দেখে না প্রতিবেদন
সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
বই বিতরণ উৎসব
আমিনুল ইসলাম খান রানা, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ | ২৩:৪০ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৫ | ১৪:৫৮
পরীক্ষা এলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেটে পড়লেই পাওয়া যায় সেই প্রশ্ন। জানাজানি হলে কিছুদিন হইচই চলে। তদন্ত কমিটি হয়, কিন্তু প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। যেন এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলেন সিরাজগঞ্জের সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরেই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন ফাঁস করে আসছেন। এ চক্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। লোক দেখানো তদন্ত কমিটি হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত জুন মাসে ষাণ্মাসিক পরীক্ষা শুরুর আগের দিন ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান, গণিত শিক্ষক সামান আলি শেখ, ভৌত বিজ্ঞান শিক্ষক তৈমুর হাসান, বাংলা শিক্ষক লিলি খাতুন ও আবুল কাশেম প্রশ্ন ফাঁস করেন। তাদের কাছে পড়েন এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই সব প্রশ্ন সরবরাহ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি কর্তৃক জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করা হয়।
গত বছর ষাণ্মাসিক-বার্ষিক পরীক্ষার আগেও একইভাবে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়। সেবারও অভিভাবকরা সাবেক জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয়ভাবে ও রাজশাহী শিক্ষা দপ্তর থেকে পৃথক দুটি তদন্তও করা হয়।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আফসার আলী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একাধিকবার তদন্ত হলেও আলোর মুখ দেখেনি। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হলে উল্টো আমাকেই লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করা হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। গত জুন মাসে অভিভাবকরা আবারও অভিযোগ দেন। এবারও বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।
পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তহবিল তসরুপ, অবৈধভাবে বিদ্যালয়ে রাত্রিযাপনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আমরা এসব বিষয়ে সোচ্চার হই। তাই আমাদের বিদ্যালয় থেকে সরাতে অভিভাবকদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণিত শিক্ষক সামান আলি শেখ, বাংলা শিক্ষক লিলি খাতুন ও তাঁর স্বামী ভৌত বিজ্ঞান শিক্ষক তৈমুর হাসান ও ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক আবুল কাশেম। তাদের দাবি, হেয় করতেই একটি মহল অভিভাবকদের দিয়ে অভিযোগ করিয়েছেন। তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
- বিষয় :
- প্রশ্নফাঁস
