‘কেউ সাধারণ মায়ের সন্তানের আত্মত্যাগ স্মরণ করে না’
শহীদ সন্তান শাহরিয়ারের স্মৃতিচারণ করছেন মমতাজ বেগম। রোববার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে সমকাল
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | ০০:০৮
‘যে কোনো অনুষ্ঠানে, যে কোনো প্রোগ্রামে সবাই খালি আবু সাঈদ আর মুগ্ধ মুগ্ধ করে। একটাবারের জন্যও আমাদের মতো সাধারণ মায়ের সন্তানগুলোর কথা কেউ বলে না। কেউ বলে না তাদের আত্মত্যাগের কথা, সাহসিকতার কথা। এ জন্য খুব কষ্ট লাগে। খারাপ লাগে।’ আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলেন মমতাজ বেগম। তাঁর ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন সুহার্তো ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হন। মারা যান ২০ জুলাই।
শাহরিয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল রোববার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন মমতাজ বেগম। ছেলের স্মৃতিচারণ করে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘১৬ তারিখ আবু সাঈদের মৃত্যুর পর যেন বদলে গেল আমার ছেলেটা। চোখেমুখে অদ্ভুত এক জেদ আর যন্ত্রণার ছাপ। কেউ না বললেও সে বুঝে গিয়েছিল– এই অন্যায় আর সহ্য করা যায় না। সহপাঠী, খালাতো ভাইদের ডেকে বলেছিল, তোমরা ঘরে বসে থাকলে চলবে না। চল, রাস্তায় নামি। নিজে আরও বেশি সাহস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনে। এরপর গুলিতে নিহত হয় আমার বুকের মানিক।’
শাহরিয়ারের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জের কুমড়াশাসন উত্তরপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা আব্দুল মতিনের চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার কুড়িলের ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন শাহরিয়ার। পাঁচটি পরীক্ষা দেওয়ার পর ১০ জুলাই থেকে ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নেন।
তাঁর নামে গঠিত শহীদ শাহরিয়ার মতিন ফাউন্ডেশন রোববার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য দেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহ নূরুল কবীর শাহীন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আওরঙ্গজেব বেলাল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের মো. বরকত উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঈশ্বরগঞ্জ শাখার সমন্বয়ক মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা।
- বিষয় :
- শহীদ
