ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১৪ শহীদ পরিবারে হতাশা-প্রত্যাশা পূরণ হয়নি আজও

১৪ শহীদ পরিবারে হতাশা-প্রত্যাশা পূরণ হয়নি আজও
×

.

মুকিত রহমানী, সিলেট

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ০০:০৫

সরকার পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সাধারণ মানুষের। ওই দিনের ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় এনে দেয়।
৪ ও ৫ আগস্ট সিলেটে প্রাণ যায় ১৪ জনের। এর মধ্যে ৪ আগস্ট নিহত হন ছয়জন। ৫ আগস্ট সিলেট নগরীতে দুজন, বিয়ানীবাজারে তিনজন ও গোয়াইনঘাটে আরও তিনজন প্রাণ হারান। এর আগে ১৮ ও ১৯ জুলাই মারা যান শাবি ছাত্র রুদ্র সেন ও সাংবাদিক এ টি এম তুরাব। এই ১৬ জন ছাড়াও আরেক জনের সন্ধান মেলেনি এই এক বছরে। ১৬ জনের মধ্যে স্বীকৃতি পাননি চারজন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ তাদের স্বজনরা।
শুধু এ পাঁচজনের পরিবার নয়, সিলেট জেলায় গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ হারানো অধিকাংশ পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কারও ভাগ্যে এখনও জোটেনি সরকারি সহায়তা। এদিকে সরকার পতনের পর মহানগরসহ জেলায় ১৪২টি মামলা হয়। সেসব মামলা এক বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পায়নি। পুলিশ দাবি করেছে ইতোমধ্যে ছয়টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। 
সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ চারজনের স্বীকৃতি না পাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, শুরুর দিকে স্থানীয় তদন্ত ও ছাত্রপ্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে তাদের নাম তালিকায় ওঠেনি। এ নিয়ে আদালতে নিহতের পরিবার ও বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা চলছে। এটা নিষ্পত্তির পরে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি শহীদ পরিবারের সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি জুলাই ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখছে। অনেক পরিবারে ভাগ নিয়ে অসন্তোষ চলছে। এ বিষয়ে তাদেরকে পৃথক আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে।  
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সিলেটে মামলা হয়েছে ১৪২টি। এর মধ্যে এসএমপির ছয় থানায় ১০৩টি ও জেলার বিভিন্ন থানায় ৩৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। গত এক বছরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩১৪ জনকে। 
এদিকে জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়া সিলেটের ১৪টি শহীদ পরিবারের সদস্যরা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে গত ২৬ জুলাই নগরীর একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় আন্দোলনে নিহত হওয়া পরিবারের অনেকে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। 

আরও পড়ুন

×