ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাঁচ লাখ টাকা চেয়ে কারাগারে জেলা যুবদলের সাবেক নেতা

পাঁচ লাখ টাকা চেয়ে কারাগারে জেলা যুবদলের সাবেক নেতা
×

.

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৪

পিরোজপুরে বহিষ্কার হওয়া জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মারুফ পোদ্দার ওরফে মারুফ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। গতকাল শনিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের ক্লাব রোডের ‘হোটেল বিলাস’ থেকে মারুফকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়। ওসি মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মারুফ পোদ্দার পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক কমিশনার প্রয়াত রুস্তুম আলী পোদ্দারের ছেলে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোরের হাওলা গ্রামের ইট-বালু ব্যবসায়ী জুয়েল শেখ বাদী হয়ে তাঁকেসহ তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন পৌরসভার নামাজপুর এলাকার মিরন মোল্লা ও মিলন মুন্সি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী জুয়েল শেখের মেসার্স রুমু এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর থেকে মারুফ পোদ্দার তাঁর বাহিনী নিয়ে এলাকার লোকজনের কাছে চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করেছেন। এ কারণে জেলা যুবদলের আহ্বায়কের পদসহ সংগঠন থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
কিছুদিন আগে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মারুফ। বালুর ব্যবসা করতে হলে তাঁকেসহ সহযোগীদের মাসে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেন। তিনি ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে মারধরসহ খুনের হুমকি দেন। 
বিষয়টি বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ স্থানীয় লোকজনকে জানালে মারুফ ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ আগস্ট আসামি মিরন, মিলনসহ অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন চায়নিজ কুড়াল, দা, লাঠি, হকিস্টিক, রড ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসে। তারা রুমু এন্টারপ্রাইজের সামনে এসে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। দিতে না চাইলে হকিস্টিক দিয়ে তাঁকে পেটানো শুরু করে। 
এ সময় ব্যবসায়িক অংশীদার রিপন তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে দুজনকেই কিল-ঘুসি মেরে, লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে দৌড়ে অফিসের মধ্যে গেলে দরজা লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করে তারা। বাড়ি থেকে তাদের দাবি করা চাঁদার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে খুনের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
 

আরও পড়ুন

×